একাই লড়বে একঝাঁক ড্রোন, চমকে দিল ‘শেষনাগ-১৫০’!

একাই লড়বে একঝাঁক ড্রোন, চমকে দিল ‘শেষনাগ-১৫০’!

ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তিতে নতুন সংযোজন শেষনাগ-১৫০: বদলে যেতে পারে যুদ্ধের সমীকরণ

ভারতের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক স্থাপন করল বেঙ্গালুরু-ভিত্তিক স্টার্টআপ ‘নিউ স্পেস রিসার্চ এন্ড টেকনোলজিস’। তারা তৈরি করেছে অত্যাধুনিক লয়টারিং মিউনিশন বা আত্মঘাতী ড্রোন ‘শেষনাগ-১৫০’। সমরাস্ত্রের এই উদ্ভাবন আধুনিক রণকৌশলে এক নিঃশব্দ বিপ্লব নিয়ে এসেছে, যা প্রতিপক্ষের সামরিক পরিকল্পনায় বড় ধরনের ছন্দপতন ঘটাতে সক্ষম।

কেন ‘শেষনাগ-১৫০’ শত্রুপক্ষের রাতের ঘুম কেড়েছে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, শেষনাগ-১৫০ কেবল একটি ড্রোন নয়, বরং এটি একটি দূরপাল্লার উড়ন্ত মিসাইল। এর প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা এবং ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা একে সমসাময়িক ড্রোন প্রযুক্তির চেয়ে বেশ কয়েক ধাপ এগিয়ে রেখেছে। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে আলোচিত হলো:

  • ১০০০ কিমি পাল্লা: দীর্ঘ পাল্লার এই ড্রোন ভারতের সীমান্ত থেকে উৎক্ষেপিত হয়ে শত্রুদেশের অনেক গভীরে থাকা কমান্ড সেন্টার বা কৌশলগত রাডার স্টেশন অকার্যকর করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
  • আকাশে ওৎ পেতে থাকা: এটি টানা ৫ ঘণ্টারও বেশি সময় আকাশে উড়ন্ত অবস্থায় থাকতে পারে। সুযোগের অপেক্ষায় থেকে নিখুঁত নিশানায় আঘাত হানতে এটি অত্যন্ত কার্যকর।
  • বিস্ফোরক বহনক্ষমতা: ড্রোনটি ২৫ থেকে ৪০ কেজি ওজনের শক্তিশালী বিস্ফোরক বহন করতে সক্ষম। এই পরিমাণ বিস্ফোরক ভারী সাঁজোয়া যান বা সুদৃঢ় বাঙ্কার গুঁড়িয়ে দিতে যথেষ্ট।

‘সোয়র্ম’ প্রযুক্তি: যখন একঝাঁক ড্রোন হবে আতঙ্ক

শেষনাগ-১৫০-এর সবচেয়ে ভীতিজাগানিয়া দিক হলো এর ‘স্বর্ম ইন্টেলিজেন্স’ প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ড্রোনগুলো এককভাবে নয়, বরং একটি সমন্বিত বাহিনী হিসেবে আক্রমণ পরিচালনা করতে পারে। প্রতিটি ড্রোন রিয়েল-টাইমে একে অপরের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান করতে সক্ষম। এতে শত্রুপক্ষের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা বা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের পক্ষে এই ড্রোন-বাহিনীকে শনাক্ত করা বা প্রতিহত করা কার্যত আসাম্ভব হয়ে পড়ে।

জিপিএস ছাড়াই নির্ভুল লক্ষ্যভেদ

আধুনিক ইলেকট্রনিক যুদ্ধের বড় হাতিয়ার হলো স্যাটেলাইট জ্যামিং। কিন্তু শেষনাগ-কে থামানো কঠিন, কারণ এর রয়েছে নিজস্ব জিপিএস-বিহীন ন্যাভিগেশন সিস্টেম। জ্যামিং বা সিগন্যাল হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও এটি নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাতহানতে পারে। এছাড়া যুদ্ধের প্রয়োজনে এটি ব্যবহারযোগ্যতা নিশ্চিত করতে যেকোনো সাধারণ ট্রাক বা হাইওয়ে থেকেও দ্রুত উৎক্ষেপণ করার সুবিধা রাখা হয়েছে।

এক ঝলকে শেষনাগ-১৫০

  • নির্মাতা সংস্থা: নিউ স্পেস রিসার্চ এন্ড টেকনোলজিস, বেঙ্গালুরু।
  • ধরন: লয়টারিং মিউনিশন বা আত্মঘাতী ড্রোন।
  • সর্বোচ্চ পাল্লা: ১০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত।
  • উড্ডয়ন ক্ষমতা: একটানা ৫ ঘণ্টার বেশি।
  • বিস্ফোরক ক্ষমতা: ২৫ থেকে ৪০ কেজি পর্যন্ত।
  • বিশেষ প্রযুক্তি: স্বর্ম ইন্টেলিজেন্স ও জিপিএস-বিহীন ন্যাভিগেশন সিস্টেম।
  • উত্পেপন সুবিধা: ট্রাক বা হাইওয়ে থেকে সহজে উৎক্ষেপণের উপযোগী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *