আসন পুনর্বিন্যাস: রাজ্যের অধিকার কেড়ে মোদির বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা স্ট্যালিনের!

লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে তুঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনা, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা স্ট্যালিনের
দেশের লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ছে। দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর অধিকার খর্ব করার আশঙ্কা প্রকাশ করে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী তথা ডিএমকে প্রধান এম কে স্ট্যালিন। আসন পুনর্বিন্যাস ইস্যুতে কেন্দ্র সরকার সংবিধান সংশোধন করতে চাইছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি বড় ধরনের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
বুলডোজার নীতি ও সংবিধান সংশোধনের অভিযোগ
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যগুলোর সঙ্গে আলোচনার তোয়াক্কা না করে ‘বুলডোজার নীতি’ অবলম্বন করছে। তাঁর মতে, সংবিধান সংশোধন করে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে, যাতে দক্ষিণের রাজ্যগুলোর রাজনৈতিক গুরুত্ব কমে যায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যদি দক্ষিণ ভারতের কোনো রাজ্যের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয়, তবে ডিএমকে এবং সমমনা বিরোধী দলগুলো বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে দ্বিধা করবে না।
সংসদের বিশেষ অধিবেশন ও বিরোধীদের শঙ্কা
কেন্দ্রীয় সরকারের পরিকল্পনামাফিক আগামী ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল সংসদে একটি বিশেষ অধিবেশন বসার সম্ভাবনা রয়েছে। এই অধিবেশনে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস এবং মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে খবর। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই বিরোধীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, বর্তমান সরকার জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস করতে চায়। এতে উত্তর ভারতের ‘গোবলয়’ বা হিন্দিভাষী রাজ্যগুলোতে আসন সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে, যার ফলে দক্ষিণ ভারত ও পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যগুলো সংসদে তাদের প্রভাব হারাতে পারে।
কালা দিবসের ডাক ও প্রতিবাদ কর্মসূচি
নিজের উদ্বেগের কথা জানিয়ে স্ট্যালিন ইতিমধ্যে ১৬ এপ্রিল ‘কালা দিবস’ পালনের ডাক দিয়েছেন। দক্ষিণ ভারতের ওপর যে কোনো বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এদিন তামিলনাড়ুর সমস্ত সরকারি অফিস এবং বাড়িগুলোতে কালো পতাকা ওড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাঁর এই কর্মসূচিতে অন্য বিরোধী দলের নেতারাও সমর্থন জানিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
এক ঝলকে
- মূল ইস্যু: লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়া নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য মতবিরোধ।
- স্ট্যালিনের অভিযোগ: রাজ্যগুলোর সাথে আলোচনা না করে বুলডোজার নীতিতে সংবিধান সংশোধনের চেষ্টা।
- রাজনৈতিক উদ্বেগ: জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস করা হলে দক্ষিণ ভারত ও পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক গুরুত্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কা।
- আন্দোলনের পরিকল্পনা: ১৬ এপ্রিল তামিলনাড়ুতে ‘কালা দিবস’ পালন এবং কালো পতাকা উত্তোলনের ডাক।
- সংসদের অবস্থান: ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল বিশেষ অধিবেশনে বিলটি পাসের সম্ভাবনা রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা।
