দিনে ১০ ঘণ্টা লোডশেডিং! গরমে নাজেহাল গ্রামগঞ্জ, কবে ফিরবে মুক্তি?

তীব্র দাবদাহে বিপর্যস্ত জনজীবন: বিদ্যুৎ সংকটে স্থবির প্রান্তিক জনপদ

তীব্র দাবদাহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। বিশেষ করে ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতে লোডশেডিংয়ের মাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। কোনো কোনো এলাকায় দিনে ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের এই ভয়াবহতা সবচেয়ে বেশি প্রকট। কর্মকর্তারা বলছেন, চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি এখন ৩০ থেকে ৪৬ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের নেপথ্যে জ্বালানি সংকট
বিদ্যুৎ কেন উৎপাদন করা যাচ্ছে না, তার পেছনে মূলত জ্বালানি সরবরাহ সংকটকেই দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি পরিস্থিতির কারণে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। যদিও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে, তবুও উৎপাদন ও চাহিদার বিশাল ব্যবধানের কারণে লোডশেডিংই এখন একমাত্র উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে অফিসের সময়সীমা সংক্ষিপ্ত করা ও বিপণিবিতান দ্রুত বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হলেও, দীর্ঘমেয়াদী সমাধানে জ্বালানি আমদানিতে গতি আনার তাগিদ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রভাব ও দীর্ঘমেয়াদী শঙ্কা
বিদ্যুতের এই অনিয়মিত সরবরাহ কেবল ঘরোয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রেই ভোগান্তি বাড়াচ্ছে না, বরং কৃষি সেচ প্রকল্প এবং ক্ষুদ্র শিল্পেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। গরমে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ফলে জনস্বাস্থ্যের পাশাপাশি উৎপাদনশীল খাতগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জ্বালানি নিশ্চয়তা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি না করা গেলে এই ভরা গরমের মরসুমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

এক ঝলকে

  • দেশজুড়ে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি, কোনো কোনো এলাকায় ১০ ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং।
  • চাহিদার তুলনায় ৩০ থেকে ৪৬ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে।
  • জ্বালানি সংকট ও আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার কারণে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো পূর্ণ ক্ষমতায় চলতে পারছে না।
  • কৃষি সেচ ও ক্ষুদ্র শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার পাশাপাশি সাধারণ জনজীবনে নেমে এসেছে তীব্র ভোগান্তি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *