আইএএস-আইপিএস বদলি নিয়ে কেন এমন কড়া কথা বললেন প্রধান বিচারপতি?

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ নয়, সুপ্রিম কোর্টের তোপে রাজ্য

বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যের আইএএস ও আইপিএস অফিসারদের বদলি সংক্রান্ত জটিলতায় বড় ধাক্কা খেল রাজ্য সরকার। নির্বাচন কমিশনের নেওয়া প্রশাসনিক রদবদলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি কার্যত খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ভোট পরিচালনার স্বার্থে কমিশনের এই সিদ্ধান্তে আদালত কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। এটি কেবল নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা বজায় রাখার একটি কৌশল হিসেবে দেখছে বিশেষজ্ঞ মহল।

কমিশন ও রাজ্যের পারস্পরিক অনাস্থা

মামলার শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে জানান, রাজ্যের সঙ্গে কমিশনের যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে, তা থেকেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্যের যুক্তি ছিল, আধিকারিক বদলির ক্ষেত্রে তাদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। তবে আদালত সেই যুক্তি খারিজ করে দিয়ে বলেছে, আইনের কোথাও কমিশনকে রাজ্যের পরামর্শ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়নি। ভোটের মুখে প্রশাসনিক রাশ নিজেদের হাতেই রাখতে কমিশন যে বদ্ধপরিকর, এই রায়ে তা স্পষ্ট।

ভোটের মুখে কমিশনের নিয়ন্ত্রণ সুনিশ্চিত

নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার পর থেকে রাজ্যে প্রায় ১১০০ জন আধিকারিককে বদলি করা হয়েছে, যা আগেভাগে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিল রাজ্য। হাইকোর্টের পর সুপ্রিম কোর্টও কমিশনের এই সিদ্ধান্তেই সিলমোহর দিয়েছে। এর ফলে আসন্ন নির্বাচনে গোটা প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার বিষয়টি কার্যত কমিশনের একক নিয়ন্ত্রণে থাকবে। পর্যবেক্ষকদের মতে, আদালতের এই অবস্থানের ফলে নির্বাচনে কোনো রকম প্রভাব বিস্তারের সুযোগ কমে গেল এবং কমিশনের এক্তিয়ার আরও সুদৃঢ় হলো।

এক ঝলকে

  • আইএএস ও আইপিএস আধিকারিকদের বদলি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করল না সুপ্রিম কোর্ট।
  • আদালতের মতে, নির্বাচন কমিশনের জন্য রাজ্যের সঙ্গে পরামর্শ করা বাধ্যতামূলক নয়; এটি কমিশনের এক্তিয়ারভুক্ত।
  • কলকাতা হাইকোর্টের পর এবার সুপ্রিম কোর্টও কমিশনের সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেওয়ায় নির্বাচনী প্রক্রিয়ার রাশ সম্পূর্ণ কমিশনের হাতেই রইল।
  • নির্বাচন কমিশনের প্রতি রাজ্যের অনাস্থা এবং কমিশনের রাজ্যের আধিকারিকদের প্রতি अবিশ্বাসের কারণেই এই প্রশাসনিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *