বেতন বৃদ্ধির চাপে দিশেহারা নয়ডার ক্ষুদ্র শিল্প মালিকরা, গণহারে কারখানা সরানোর হুঁশিয়ারি!

উত্তরপ্রদেশের নয়ডায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME) খাতে ন্যূনতম মজুরি ২১ শতাংশ বৃদ্ধির সরকারি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তীব্র আর্থিক সংকট ও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। নতুন এই বেতন কাঠামোর ফলে কারখানার মালিকদের ওপর আকাশচুম্বী আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে, যার ফলে তারা সরকারের পূর্ববর্তী সমর্থন থেকে সরে আসছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও মালিকপক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে তা বাস্তবায়নে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বাড়ার ফলে পরোক্ষভাবে ওভারটাইমের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। উদ্যোক্তাদের হিসাব অনুযায়ী, একজন শ্রমিকের আট ঘণ্টার মাসিক বেতন ১৩,০০০ টাকা থেকে বেড়ে ১৫,৭৩০ টাকা হওয়ায় ওভারটাইমের দৈনিক হার ২৪০ টাকা থেকে ৫৬০ টাকায় পৌঁছেছে। এর ফলে একজন শ্রমিকের মাসিক আয়ের ওপর অতিরিক্ত ১২,০০০ টাকার বোঝা তৈরি হয়েছে, যা ক্ষুদ্র শিল্পগুলোর পক্ষে বহন করা আসাম্ভব হয়ে পড়েছে। এছাড়া প্রভিডেন্ট ফান্ড (PF) ও ইএসআইসি (ESIC) সংক্রান্ত বর্ধিত ব্যয়ের কারণে শিল্পের মেরুদণ্ড ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন।
শিল্প মালিকদের অভিযোগ, ২০১১ সালের পর মজুরি নির্ধারণের জন্য কোনো যথাযথ কমিটি গঠন করা হয়নি এবং বর্তমান প্রক্রিয়াটি সঠিক নিয়মে পরিচালিত হচ্ছে না। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে উৎপাদন খরচ সামলাতে না পেরে অনেক উদ্যোক্তা তাদের কারখানা নয়ডা থেকে অন্য রাজ্যে সরিয়ে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। মালিকপক্ষের দাবি, নতুন বেতন কাঠামো এমএসএমই খাতের টেকসই উন্নয়নের পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
