হোরমুজ প্রণালীতে ঢুকলেই হামলা চালাবে ইরান

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হোরমুজ প্রণালী নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। সম্প্রতি এই পথে যাতায়াতকারী ‘জগ অর্ণব’ ও ‘সানমার হেরাল্ড’ নামক দুটি ভারতীয় তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ইরানি বাহিনী গুলি চালানোর পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই জলসীমায় প্রবেশের যেকোনো চেষ্টাকে শত্রুপক্ষকে সহায়তা হিসেবে গণ্য করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট নৌযানগুলোর ওপর সরাসরি হামলা চালানো হবে।
আঞ্চলিক উত্তেজনা ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে নৌ-অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণার পর ইরান পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে হোরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে। দেশটির নৌবাহিনী সাফ জানিয়েছে, পারস্য উপসাগর বা ওমান সাগরে থাকা জাহাজগুলোকে বর্তমানে বন্দর ত্যাগ না করে নোঙর করে থাকতে হবে। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের কোনো বিবৃতির গুরুত্ব তাদের কাছে নেই; জাহাজ মালিকদের শুধুমাত্র ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি-র নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের বড় একটি অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। প্রণালীটি বন্ধ হওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। একদিকে ইরান যখন কঠোর অবস্থান নিচ্ছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া থেকে তেল আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আগামী ১৬ মে পর্যন্ত শিথিল করেছে। ইরানের এই অনড় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা বাড়িয়ে দিতে পারে।
এক ঝলকে
- হোরমুজ প্রণালীতে প্রবেশ করা যেকোনো জাহাজে হামলার হুমকি দিয়েছে ইরান।
- ভারতীয় দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে গুলি চালানোর পর এই উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।
- মার্কিন নৌ-অবরোধের প্রতিক্রিয়ায় এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান।
- আইআরজিসি-র নির্দেশনা ছাড়া কোনো জাহাজকে পারস্য উপসাগর এলাকায় চলাচল না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
