নিঝুম রাতে একরাশ দুশ্চিন্তা: কেন ঘুমের সময় পুরনো স্মৃতি হানা দেয়? কী বলছে বিজ্ঞান?

সারাদিন কর্মব্যস্ততায় কাটলেও বিছানায় শোয়ামাত্রই অনেক মানুষের মনে ভিড় করে রাজ্যের দুশ্চিন্তা। পুরনো স্মৃতি, ভবিষ্যতের ভয় কিংবা ছোটখাটো ব্যর্থতাগুলো রাতের অন্ধকারে পাহাড়সম মনে হতে থাকে। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এটি কোনো আকস্মিক বিষয় নয় বরং এর পেছনে রয়েছে মস্তিষ্কের জটিল ক্রিয়া এবং হরমোনের পরিবর্তন। দিনের কোলাহল শেষে নিস্তব্ধ পরিবেশে মস্তিষ্ক যখন বাহ্যিক উদ্দীপনা পায় না, তখন এটি অবদমিত আবেগ ও চিন্তাগুলোকে সামনে নিয়ে আসে।
হরমোনের প্রভাব ও মস্তিষ্কের রসায়ন
গবেষণায় দেখা গেছে, রাতে শরীরে স্ট্রেস হরমোন ‘কর্টিসল’-এর মাত্রা কমতে শুরু করলে মস্তিষ্ক আবেগের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। একই সময়ে মস্তিষ্কের ‘অ্যামিগডালা’ অংশটি অধিক সক্রিয় থাকায় সামান্য উদ্বেগও তখন বিশাল আকার ধারণ করে। এছাড়া ঘুমানোর আগে মোবাইল ফোনের নীল আলো বা ‘ব্লু লাইট’ মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণে বাধা দেয়, যা মস্তিষ্ককে শান্ত হতে না দিয়ে উল্টো উত্তেজিত করে তোলে। ফলে ঘুমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয় এবং মানসিক চাপ বহুগুণ বেড়ে যায়।
মুক্তির উপায় ও মনস্তাত্ত্বিক কৌশল
এই মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে বিশেষজ্ঞরা ‘ডিজিটাল ডিটক্স’ বা ঘুমানোর অন্তত ৩০ মিনিট আগে ফোন থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন। এছাড়া দিনের দুশ্চিন্তাগুলো একটি ডায়েরিতে লিখে রাখলে মস্তিষ্ক ভারমুক্ত বোধ করে। শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম এবং সারাদিনের ইতিবাচক তিনটি ঘটনার কথা স্মরণ করাও মনকে শান্ত করতে জাদুর মতো কাজ করে। এসব অভ্যাস গড়ে তুললে রাতের বিষণ্ণতা কাটিয়ে একটি নিরবচ্ছিন্ন ও সুস্থ ঘুম নিশ্চিত করা সম্ভব।
এক ঝলকে
- দিনের কর্মব্যস্ততা ও শব্দের অভাব রাতের একাকীত্বে অবদমিত আবেগগুলোকে জাগ্রত করে।
- কর্টিসল হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং অ্যামিগডালার সক্রিয়তা উদ্বেগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কারণ।
- শোয়ার আগে মোবাইল ফোনের ব্যবহার ঘুমের হরমোন নষ্ট করে মানসিক অস্থিরতা তৈরি করে।
- ডায়েরি লেখা এবং সঠিক শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম এই মানসিক ভার লাঘবে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
