নির্বাচন ২০২৬, বাংলার ২৫০ আসনে আরএসএসের ড্রয়িংরুম বৈঠক ও বিশেষ কৌশল

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের প্রাক্কালে অত্যন্ত সুকৌশলে ময়দানে নেমেছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)। সরাসরি জনসভা বা বড় প্রচারের পথে না হেঁটে তারা বেছে নিয়েছে ‘ড্রয়িংরুম বৈঠক’ বা ঘরোয়া আলোচনার পথ। রাজ্যের প্রায় ২৫০টিরও বেশি বিধানসভা কেন্দ্রে আড়াই লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছাতে এই বিশেষ জনসংযোগ অভিযান চালাচ্ছে তারা। মূলত ভোটারদের মনস্তত্ত্ব বুঝে জনমতকে প্রভাবিত করাই এই নিঃশব্দ অভিযানের প্রধান লক্ষ্য।
জনসংযোগ ও লোকমত পরিশোধন
আরএসএস এই অভিযানকে ‘লোকমত পরিশোধন’ নাম দিয়েছে, যা মূলত দিল্লির নির্বাচনের মডেলে সাজানো হয়েছে। চার থেকে পাঁচ জন করে স্বয়ংসেবকের ছোট ছোট দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে ব্যক্তিগত স্তরে আলাপচারিতা সারছেন। বড় কোনো রাজনৈতিক স্লোগান নয়, বরং ভয় ও প্রলোভনহীন ভোটদানের গুরুত্ব বোঝানো হচ্ছে এই বৈঠকে। একইসঙ্গে আর জি কর কাণ্ড, নারী সুরক্ষা এবং অনুপ্রবেশের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুগুলোকে সামনে রেখে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে জনমত গঠনের চেষ্টা চলছে।
মূল ইস্যু ও কৌশলী পদক্ষপে
সংঘের প্রচারপত্রে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি ও সারদা কেলেঙ্কারির মতো বিষয়গুলোও প্রাধান্য পাচ্ছে। বিশেষ করে নারী নিরাপত্তাকে বড় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে সংসদে নারী সংরক্ষণ বিলের বিরোধিতায় তৃণমূলের অবস্থানের সমালোচনা করা হচ্ছে। এছাড়া হিন্দুদের নিরাপত্তা ও জনতাত্ত্বিক পরিবর্তনের যুক্তি দিয়ে অনুপ্রবেশ ইস্যুটিকেও জোরালোভাবে সামনে আনা হয়েছে। ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ করে নিয়মিত যোগাযোগের পাশাপাশি বুথ দখলের মতো সম্ভাব্য অশান্তি রুখতেও বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছেন স্বয়ংসেবকরা।
গত ১৫ বছরে পশ্চিমবঙ্গে আরএসএসের সাংগঠনিক শক্তি ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। ৯০০ থেকে বেড়ে বর্তমানে শাখার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৩০০-তে। হিন্দু ঐক্যের ডাক দিয়ে চালানো এই সূক্ষ্ম প্রচার নির্বাচনী লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এক ঝলকে
- রাজ্যের ২৫০টির বেশি কেন্দ্রে ‘ড্রয়িংরুম বৈঠকের’ মাধ্যমে নিঃশব্দে প্রচার চালাচ্ছে আরএসএস।
- নারী সুরক্ষা, আর জি কর কাণ্ড এবং অনুপ্রবেশকে প্রধান ইস্যু হিসেবে সামনে রাখা হয়েছে।
- দিল্লির নির্বাচনের ধাঁচে প্রায় আড়াই লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
- তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও নারী অধিকার বিরোধী অবস্থানের অভিযোগ এনে প্রচার চলছে।
