সীমান্তে বিষ ছড়াচ্ছে পাকিস্তান, বিপন্ন পাঞ্জাবের জনস্বাস্থ্য

পাঞ্জাবের ফাজিলকা জেলা সংলগ্ন ভারতীয় সীমান্ত এলাকায় খাল ও নদীর জলতে তীব্র দূষণ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পাকিস্তানের কাসুর জেলার চামড়া কারখানাগুলোর বিষাক্ত রাসায়নিক মিশ্রিত কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত জল সতলুজ নদীতে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। এই বিষাক্ত জল সীমান্ত পেরিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডের খালগুলোতে মিশে যাওয়ায় ফাজিলকার আরনিওয়ালা ও সংলগ্ন গ্রামগুলোর পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জলর তীব্র সংকট ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি
দূষিত জলর প্রভাবে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে খাওয়ার জলর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বালুয়ানা বিধানসভা কেন্দ্রের কাটাইহড়া গ্রামে পরিস্থিতি সবথেকে ভয়াবহ। খালের জল ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় স্থানীয় ওয়াটার ওয়ার্কসের সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। মানুষ বাধ্য হয়ে ভূগর্ভস্থ জল পান করছে, যা আগে থেকেই পানযোগ্য নয় বলে প্রমাণিত। ফলে এই অঞ্চলে জলবাহিত রোগ ও দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে।
প্রশাসনিক উদাসীনতা ও প্রতিকারের দাবি
সীমান্তের এই পুরনো সমস্যা সমাধানে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে পাঞ্জাব রাজ্য সরকার। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী হরপাল চিমা জানিয়েছেন, পাকিস্তানের এই দূষিত জল রুখতে বাঁধ নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হলেও এখনো পর্যাপ্ত সহায়তা মেলেনি। এদিকে স্থানীয় পঞ্চায়েত ও গ্রামবাসী দ্রুত আরও প্ল্যান্ট স্থাপন এবং গ্রামগুলোর ওয়াটার ওয়ার্কস সংস্কারের জোর দাবি জানিয়েছেন। বিষাক্ত জলর এই প্রবাহ বন্ধ না হলে পুরো অঞ্চলের জনজীবন অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এক ঝলকে
- পাকিস্তানের চামড়া কারখানার রাসায়নিক বর্জ্য সতলুজ নদীর মাধ্যমে ভারতে প্রবেশ করছে।
- পাঞ্জাবের ফাজিলকা ও কাটাইহড়া গ্রামে জলর সরবরাহ ও কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
- দূষিত জলর কারণে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে মহামারীর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
- প্রতিকার হিসেবে সীমান্তে বাঁধ নির্মাণ ও আরও প্ল্যান্ট স্থাপনের দাবি উঠেছে।
