রেকর্ড নিরাপত্তা সত্ত্বেও বুথে ছাপ্পা! প্রথম ভোট দিতে এসে চোখের জলে ভাসলেন তরুণী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার প্রতিটি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং ১০০ শতাংশ ওয়েব কাস্টিংয়ের নজিরবিহীন ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ উঠল শিলিগুড়িতে। বৃহস্পতিবার নির্বাচনের প্রথম দফায় শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের রামকৃষ্ণ পাঠশালা বুথে নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে এসে চরম হেনস্তার শিকার হন তরুণী ভোটার কাজল দাস। জীবনের প্রথম ভোট দেওয়ার উৎসাহ নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়েও শেষ পর্যন্ত ইভিএম পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেননি তিনি, কারণ তাঁর আগেই অন্য কেউ সেই ভোট দিয়ে দিয়েছে বলে জানানো হয়।
প্রশাসনের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারি ও সাঁজোয়া গাড়ির টহলের মাঝে এই ঘটনা প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাঁকফোকরগুলিকেই প্রকাশ্যে এনেছে। প্রিসাইডিং অফিসারের সামনে কীভাবে একজন ভোটারের বদলে অন্য কেউ ভোট দিয়ে চলে গেল, তা নিয়ে বুথ চত্বরে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। হতভম্ব ওই তরুণী ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান যে, এত আয়োজন থাকা সত্ত্বেও যদি সাধারণ মানুষ ভোট দিতে না পারে, তবে এই ব্যবস্থার কোনো অর্থ হয় না। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি হয়।
রাজনৈতিক চাপানউতোর ও আইনি পদক্ষেপ
এই ঘটনার খবর পেয়েই শিলিগুড়ির বিজেপি প্রার্থী শংকর ঘোষ ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং সরাসরি নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানানোর কথা বলেন। যদিও ভোটকর্মীদের দাবি, ভোটার স্লিপের অদলবদলের কারণে এই যান্ত্রিক ত্রুটি হতে পারে, তবে রাজনৈতিক মহল এই সাফাই মানতে নারাজ। যেহেতু প্রতিটি বুথে সিসিটিভি রয়েছে, তাই ফুটেজ খতিয়ে দেখে দোষী ব্যক্তিকে শনাক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে। এই অনিয়মের কারণে সংশ্লিষ্ট বুথের প্রিসাইডিং অফিসারের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এক ঝলকে
- শিলিগুড়ির রামকৃষ্ণ পাঠশালা বুথে কাজল দাস নামে এক তরুণী ভোটার জালিয়াতির শিকার হয়েছেন।
- কড়া নিরাপত্তা ও ওয়েব কাস্টিং থাকা সত্ত্বেও ওই তরুণীর ভোট অন্য কেউ দিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ।
- ঘটনায় ক্ষুব্ধ বিজেপি প্রার্থী শংকর ঘোষ বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
- সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে কমিশন।
