সুন্নত বা খতনা করলে কি সত্যিই পৌরুষ বাড়ায়! চিকিৎসকদের তথ্যে মিলল নতুন দিশা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ধর্মীয় রীতি কিংবা চিকিৎসার কারণে পুরুষাঙ্গের অগ্রভাগের ত্বক অপসারণ বা সারকামসিশন (খতনা) অত্যন্ত প্রচলিত একটি পদ্ধতি। সম্প্রতি এই প্রক্রিয়াটি নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা কৌতূহল ও ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো যৌনক্ষমতা বা পৌরুষ বৃদ্ধি। তবে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, সারকামসিশনের মূল উদ্দেশ্য মূলত স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা এবং নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক জটিলতা থেকে মুক্তি পাওয়া। এর সাথে পৌরুষ বাড়ার সরাসরি কোনো বৈজ্ঞানিক যোগসূত্র নেই বলেই তারা মনে করেন।
চিকিৎসা বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্যগত সুবিধা
চিকিৎসকদের মতে, সারকামসিশনের ফলে জননাঙ্গের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অনেক সহজ হয়ে যায়। এর ফলে মূত্রনালীর সংক্রমণ এবং নির্দিষ্ট কিছু চর্মরোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়াটি এইচআইভি-র মতো যৌনবাহিত রোগের ঝুঁকি কিছুটা হ্রাস করতে সাহায্য করতে পারে। তবে এটি কোনোভাবেই শতভাগ সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেয় না, বরং এটি কেবল একটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে।
সংবেদনশীলতা ও অস্ত্রোপচার পরবর্তী প্রভাব
সারকামসিশনের পর শারীরিক সংবেদনশীলতায় বড় কোনো পরিবর্তন আসে কি না, তা নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে বিতর্ক চলছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, অধিকাংশ পুরুষ এই প্রক্রিয়ার পর বিশেষ কোনো নেতিবাচক পরিবর্তন অনুভব করেন না। তবে এটি একটি অস্ত্রোপচার হওয়ায় দক্ষ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সঠিকভাবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলে ব্যথা, ফোলা ভাব বা রক্তক্ষরণের মতো ঝুঁকি থেকে যায়। শৈশবে এই অস্ত্রোপচার করালে দ্রুত সেরে ওঠার সম্ভাবনা থাকলেও বয়স্কদের ক্ষেত্রে নিরাময় হতে কিছুটা বেশি সময় নিতে পারে।
এক ঝলকে
- সারকামসিশন মূলত ধর্মীয় রীতি এবং স্বাস্থ্যগত সচেতনতার কারণে করা একটি ছোট অস্ত্রোপচার।
- এটি জননাঙ্গের পরিচ্ছন্নতা বৃদ্ধি করে এবং বিভিন্ন সংক্রমণ বা যৌনবাহিত রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।
- যৌনক্ষমতা বা সংবেদনশীলতা বৃদ্ধির বিষয়ে চিকিৎসকরা কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাননি, এটি মূলত ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে।
- যেকোনো শারীরিক জটিলতা এড়াতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
