নয় সন্তানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে, চার সন্তানের বাবার সাথে পালালেন পাঁচ সন্তানের মা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
উত্তরপ্রদেশের একটি গ্রাম থেকে সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর ও হৃদয়বিদারক ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। একই গ্রামের দুই বাসিন্দা—যাঁদের একজনের পাঁচটি এবং অন্যজনের চারটি সন্তান রয়েছে—সংসার ও সন্তানদের মায়া ত্যাগ করে একে অপরের সাথে ঘর ছেড়েছেন। ঘটনাটি জানাজানি হয় যখন ওই নারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাঁদের বিয়ের একটি ছবি পোস্ট করেন। এই ঘটনাটি বর্তমানে স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও আকস্মিক অন্তর্ধান
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গীতা নামের ওই নারী তাঁর পাঁচ সন্তান ও স্বামীকে ফেলে রেখে ঘর থেকে নগদ টাকা ও গয়না নিয়ে নিখোঁজ হন। তাঁর স্বামী শ্রীচাঁদ প্রথমে ভেবেছিলেন স্ত্রী হয়তো বাপের বাড়ি গেছেন। কিন্তু অন্তর্ধানের তিন দিন পর গ্রামবাসীদের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে, গীতা একই গ্রামের বাসিন্দা গোপাল নামক এক ব্যক্তির সাথে বিয়ে করেছেন এবং সেই ছবি ফেসবুকে শেয়ার করেছেন।
শ্রীচাঁদ ও গীতার সংসারে ১৯ বছর থেকে ৫ বছর বয়সী পাঁচটি সন্তান রয়েছে। একসময় মুম্বাইতে বড়া-পাওয়ের দোকানে কাজ করলেও বর্তমানে শ্রীচাঁদ দিনমজুরি করে সন্তানদের মুখে অন্ন তুলে দিচ্ছেন।
পরকীয়ার প্রভাব ও দুই পরিবারের দুর্দশা
এই সম্পর্কের জেরে চরম সংকটে পড়েছে দুটি পরিবারই। গোপাল, যিনি পেশায় মুম্বাইয়ের একটি রাখিবন্ধন কারখানায় কাজ করতেন, তিনিও তাঁর চার সন্তান ও স্ত্রীকে ফেলে রেখে পালিয়েছেন। ঘটনার সামাজিক ও মানসিক প্রভাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:
- বিপর্যস্ত শৈশব: মোট নয়টি শিশুর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। মা কিংবা বাবার অনুপস্থিতি শিশুদের মনে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
- আর্থিক সংকট: শ্রীচাঁদ জানিয়েছেন, তাঁর স্ত্রী বাড়ি থেকে ৯০ হাজার টাকা ও মূল্যবান অলঙ্কার নিয়ে গেছেন। অন্যদিকে, গোপালের স্ত্রী হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতা কর্মীর কাজ করে সন্তানদের ভরণপোষণ করছেন, কারণ গোপাল অনেকদিন ধরেই বাড়িতে টাকা পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছিলেন।
আইনি পদক্ষেপ ও ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি
ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর উভয় পক্ষই পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অভিযোগ, থানা থেকে তাঁরা আশানুরূপ কোনো সহযোগিতা পাননি। শ্রীচাঁদ জানিয়েছেন, তিনি কেবল তাঁর কষ্টের উপার্জিত টাকা ও গয়না ফেরত চান, স্ত্রীর সাথে তাঁর আর কোনো সম্পর্ক নেই। অন্যদিকে, গোপালের স্ত্রী তাঁর ও সন্তানদের জন্য সম্পত্তির অধিকার এবং ভরণপোষণের দাবি জানিয়েছেন।
এই ঘটনাটি কেবল ব্যক্তিগত অনৈতিকতা নয়, বরং গ্রামীণ সমাজে পারিবারিক কাঠামোর ভাঙন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবে হঠকারী সিদ্ধান্তের এক চরম উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- ঘটনা: পাঁচ সন্তানের মা ও চার সন্তানের বাবার একসাথে পলায়ন ও বিয়ে।
- স্থান: উত্তরপ্রদেশের একটি গ্রাম।
- পরিণতি: মোট ৯টি শিশুর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত এবং দুটি পরিবারে চরম আর্থিক অনটন।
- দাবি: স্বামী শ্রীচাঁদ গয়না ও টাকা ফেরত চান; স্ত্রী (গোপালের স্ত্রী) সম্পত্তির ভাগ ও ভরণপোষণ চান।
- বর্তমান অবস্থা: পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ এবং স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য।
