প্রথম দফার ভোট মিটতেই বিস্ফোরক অনুব্রত, শাসক শিবিরের অন্দরে কি তবে আশঙ্কার মেঘ? – এবেলা

প্রথম দফার ভোট মিটতেই বিস্ফোরক অনুব্রত, শাসক শিবিরের অন্দরে কি তবে আশঙ্কার মেঘ? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

২০২৬-এর হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফা শেষ হতে না হতেই রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূলের দীর্ঘদিনের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের একটি ভাইরাল ভিডিও ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল শুরু হয়েছে। যেখানে প্রথম দফার ১৫২টি আসনের মধ্যে দল মাত্র ১৫-১৬টি আসন পেতে পারে বলে তাঁকে মন্তব্য করতে শোনা যাচ্ছে। যদিও এই ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবুও দলের অন্যতম হেভিওয়েট নেতার এই কথিত ‘স্বীকারোক্তি’ শাসক শিবিরের অস্বস্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সমীকরণ ও সাংগঠনিক রদবদল

গরু পাচার মামলায় দীর্ঘ কারাবাসের পর ফিরে এসে বীরভূমের রাজনীতিতে আগের মতো দাপট ফিরে পাননি অনুব্রত মণ্ডল। জেলা সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে সেখানে কোর কমিটি গঠন করায় দলের সংগঠনে তিনি এখন অনেকটাই কোণঠাসা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরবঙ্গ ও মেদিনীপুরের মতো এলাকায় বিজেপির ক্রমবর্ধমান শক্তি এবং তৃণমূলের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগই হয়তো এই নেতিবাচক পূর্বাভাসের মূল কারণ। দলের অন্দরে যখন জয়ের লক্ষ্যমাত্রা আকাশচুম্বী, তখন এই ধরণের মন্তব্য তৃণমূল কর্মীদের মনোবল ভাঙার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নিতে পারে।

বিরোধীদের আক্রমণ ও তৃণমূলের অস্বস্তি

অনুব্রতর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই আক্রমণ শানাতে শুরু করেছে বিজেপি নেতৃত্ব। বিরোধী শিবিরের দাবি, নির্বাচনের মাঝপথে দলের অন্যতম প্রধান সৈনিকের এই ‘হার স্বীকার’ আদতে তৃণমূলের পতনের ইঙ্গিত। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশ এই ভিডিওর প্রেক্ষাপট নিয়ে প্রশ্ন তুললেও দলের শীর্ষ স্তরে এটি গভীর চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথম দফার এই হতাশাজনক পরিসংখ্যান যদি সত্যি হয়, তবে পরবর্তী দফাগুলিতে দলের রণকৌশল কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্নচিহ্ন।

এক ঝলকে

  • প্রথম দফার ১৫২টি আসনের মধ্যে তৃণমূল মাত্র ১৫-১৬টি পাবে বলে ভাইরাল ভিডিওতে দাবি করেছেন অনুব্রত মণ্ডল।
  • জেল ফেরত নেতার এই কথিত মন্তব্য দলের কর্মীদের মনোবল ও পরবর্তী দফার লড়াইয়ে প্রভাব ফেলতে পারে।
  • বিজেপি এই মন্তব্যকে তৃণমূলের ‘হার স্বীকার’ হিসেবে বর্ণনা করে প্রচার শুরু করেছে।
  • বীরভূমের জেলা রাজনীতিতে অনুব্রতর কোণঠাসা হওয়া এবং বিরোধীদের শক্তিবৃদ্ধি এই আশঙ্কার নেপথ্যে কারণ হিসেবে উঠে আসছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *