সুপ্রিম কোর্টে শুনানির মাঝেই কমিশনের আইনজীবীকে নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানালেন-কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলাকালীন এক নজিরবিহীন ও হালকা মেজাজের মুহূর্ত তৈরি হলো তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৌজন্যে। শুনানি চলাকালীন তিনি নির্বাচন কমিশনের পক্ষে সওয়াল করতে আসা সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকে আগামী ৪ মে সশরীরে নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানান। আদালতের গুরুগম্ভীর পরিবেশের মাঝে এই ব্যক্তিগত পর্যায়ের আন্তরিক প্রস্তাব উপস্থিত আইনজীবীদের নজর কেড়েছে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আমন্ত্রণের প্রেক্ষিতে বিচারপতি বাগচী মন্তব্য করেন যে, সলিসিটর জেনারেল যদি আগে কলকাতায় আসতেন তবে সেই আতিথেয়তার দায়িত্ব তাঁর ওপরই বর্তাত।
ভোটের হিংসা ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা
নৈশভোজের এই আলাপচারিতার সমান্তরালে শুনানিতে উঠে আসে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকার প্রসঙ্গও। সলিসিটর জেনারেল মেহতা আদালতকে আশ্বস্ত করেন যে, নির্বাচনে শান্তি বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় বাহিনী অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছে। এর প্রেক্ষিতে বিচারপতি কান্তও জনসচেতনতার ওপর জোর দেন। তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন যে, সাধারণ ভোটাররা যখন নিজেদের ভোটাধিকারের প্রকৃত শক্তি ও গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারেন, তখন তাঁরা সাধারণত হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকেন। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হিংসা রোধে সচেতনতা যে একটি বড় হাতিয়ার, তা বিচারপতির কথায় স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
শুনানি শেষে আদালত ট্রাইবুনালের মাধ্যমে নাম নিষ্পত্তি সংক্রান্ত আইনি পথে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করে। বিচারপতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, যদি ট্রাইবুনালে কোনো নাম নিষ্পত্তি নিয়ে আদালতের হস্তক্ষেপের একান্ত প্রয়োজন হয়, তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষ সরাসরি হাই কোর্টে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। এই আইনি সমাধানের পাশাপাশি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নৈশভোজের আমন্ত্রণ পুরো বিষয়টিতে একটি বিশেষ মানবিক ও পেশাদার সৌজন্যের মাত্রা যোগ করেছে।
এক ঝলকে
- সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানির মাঝেই সলিসিটর জেনারেলকে ৪ মে নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানালেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
- সলিসিটর জেনারেল মেহতা আদালতে দাবি করেছেন যে কেন্দ্রীয় বাহিনী খুব ভালো কাজ করেছে।
- ভোটাররা নিজেদের ভোটাধিকারের শক্তি বুঝলে হিংসায় জড়ান না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি কান্ত।
- আইনি জটিলতা নিরসনে প্রয়োজনে হাই কোর্টে আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
