লক্ষ্মীবারে বিশ্ববাজারে বড় বিপর্যয়, সোনা ও রুপোর দামে বিশাল ধস! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিশ্ববাজারের অস্থিরতায় সপ্তাহের শেষে বড়সড় ওলটপালট ঘটে গেল ধাতু বাজারে। শক্তিশালী ডলারের দাপট এবং মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কায় শুক্রবার মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) সোনা ও রুপোর দামে ব্যাপক পতন লক্ষ্য করা গিয়েছে। একদিনেই ১০ গ্রাম সোনার দাম ১ হাজার টাকার বেশি কমে দেড় লক্ষ টাকার ঘরে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, রুপোর দামেও বড় ধস নেমেছে, যেখানে প্রতি কেজিতে দাম কমেছে প্রায় ২,৩১৩ টাকা। মূল্যবান এই দুই ধাতুর আকস্মিক দরপতন বিনিয়োগকারী ও বাজার বিশেষজ্ঞদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
বাজারের পতনের নেপথ্যে প্রধান কারণসমূহ
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দরপতনের পেছনে মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ কাজ করছে। প্রথমত, আন্তর্জাতিক বাজারে আমেরিকান ডলারের শক্তি বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্ড ইল্ড বেড়েছে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সোনা ও রুপোর ওপর। দ্বিতীয়ত, পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। তৃতীয়ত, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় মুদ্রাস্ফীতির আতঙ্ক প্রবল হয়েছে, যা পরোক্ষভাবে মূল্যবান ধাতুর বিক্রির চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে।
তেল ও শেয়ার বাজারের নেতিবাচক প্রভাব
ধাতু বাজারের পাশাপাশি ধস নেমেছে ভারতীয় শেয়ার বাজারেও। ডলারের আধিপত্য এবং তেলের দামের আকাশছোঁয়া উল্লম্ফনের কারণে সেনসেক্স ও নিফটি উভয় সূচকই প্রায় ১ শতাংশের কাছাকাছি পড়ে গিয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম বৃদ্ধির ফলে পরিবহন খরচ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির এই অস্থিতিশীলতা এখনই কাটার কোনো লক্ষণ নেই বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
এক ঝলকে
- আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের শক্তি বৃদ্ধিতে সোনা ও রুপোর দামে বড় ধস নেমেছে।
- একদিনে ১০ গ্রাম সোনার দাম প্রায় ১ হাজার টাকা এবং রুপো কেজিতে ২,৩১৩ টাকা কমেছে।
- অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়ানোয় শেয়ার বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
- পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি ও মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
