রাতে দ্রুত ডিনার সেরে নেওয়াই কি সুস্বাস্থ্যের আসল চাবিকাঠি! জেনে নিন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বর্তমান ব্যস্ত জীবনযাত্রায় দেরি করে রাতের খাবার খাওয়ার অভ্যাস প্রায় মহামারীর আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে শহর অঞ্চলে রাত ১১টার পর ডিনার করা এখন অত্যন্ত সাধারণ বিষয়। তবে চিকিৎসকদের মতে, এই অভ্যাস শরীরের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করছে। রাত ৭টার মধ্যে রাতের খাবার সেরে ফেললে ডায়াবেটিস, স্থূলতা এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো মরণব্যাধির ঝুঁকি অনেকাংশেই কমিয়ে আনা সম্ভব।
হালকা খাবারের প্রয়োজনীয়তা ও হজম প্রক্রিয়া
শরীরের স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী সূর্যাস্তের পর বিপাক হার বা মেটাবলিজম ধীর হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, রাতে শরীর বিশ্রামের প্রস্তুতি নেয় বলে পাচনতন্ত্রের কর্মক্ষমতাও কমে আসে। এই সময়ে ভারী বা উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার গ্রহণ করলে তা সঠিকভাবে হজম হয় না, যার ফলে গ্যাস, অ্যাসিডিটি ও পেট ব্যথার মতো সমস্যা তৈরি হয়। তাই রাতে সবজি, সালাদ, খিচুড়ি বা ডালের মতো কম ক্যালরির হালকা খাবার বেছে নেওয়া শরীরের জন্য সবথেকে নিরাপদ।
উন্নত ঘুম ও বিপাকীয় ভারসাম্য
ঘুমানোর অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করলে শরীর খাদ্য পরিপাকের পর্যাপ্ত সময় পায়। এতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে না এবং সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর শরীর সতেজ থাকে। অন্যদিকে, রাত ১০টা বা ১১টায় খেয়ে সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়লে শরীরের ক্যালরি পোড়ানোর বদলে মেদ হিসেবে জমা হতে শুরু করে। এর ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে ডিনার সম্পন্ন করলে পাচনতন্ত্র বিশ্রাম পায় এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো তাদের পুনর্গঠনের কাজ সঠিকভাবে করতে পারে।
এক ঝলকে
- রাত ৭টার মধ্যে ডিনার করলে হজম প্রক্রিয়া উন্নত হয় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।
- ঘুমানোর ৩ ঘণ্টা আগে হালকা খাবার খেলে অনিদ্রার সমস্যা দূর হয় ও ঘুমের মান বাড়ে।
- দেরিতে খাওয়ার ফলে সৃষ্ট গ্যাস, বদহজম এবং উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
- রাতে কম ক্যালরিযুক্ত খাবার যেমন ডাল, সবজি বা খিচুড়ি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য আদর্শ।
