মাঠে প্রায়শই চলত গোপন সাক্ষাৎ! ৬৭ বছরের বৃদ্ধকে বিয়ে করলেন ১৯ বছরের তরুণী, এই কান্ডে সকলের চক্ষু চড়কগাছ – এবেলা

মাঠে প্রায়শই চলত গোপন সাক্ষাৎ! ৬৭ বছরের বৃদ্ধকে বিয়ে করলেন ১৯ বছরের তরুণী, এই কান্ডে সকলের চক্ষু চড়কগাছ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পাঞ্জাবের একটি গ্রাম থেকে উঠে আসা এক প্রেমকাহিনি বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী ও ৬৭ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের এই আসাম বিয়ে প্রচলিত সামাজিক প্রথা ও বয়সের সীমাবদ্ধতাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। এটি কেবল একটি বিয়ের খবর নয়, বরং আধুনিক সমাজব্যবস্থায় ব্যক্তিগত পছন্দ ও সামাজিক চাপের এক জটিল মিশেল।

লোকচক্ষুর আড়ালে মাঠের সেই গোপন প্রণয়

ঘটনাটি পাঞ্জাবের একটি গ্রামের। জানা গেছে, ১৯ বছর বয়সী ওই তরুণী আগে থেকেই বিবাহিত ছিলেন। তবে স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের মাঝে তিনি গ্রামেরই ৬৭ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের প্রেমে পড়েন। লোকলজ্জার ভয়ে তারা জনসমক্ষে আসতেন না। দীর্ঘ দিন ধরে গ্রামের নির্জন মাঠে তারা গোপনে দেখা করতেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি; গ্রামবাসীদের নজরে চলে আসে তাদের এই গোপন অভিসার।

সামাজিক চাপ নাকি সম্মতির বিয়ে

গ্রামবাসীরা তাদের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারার পর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ উঠেছে, গ্রামবাসীরা তাদের হাতেনাতে ধরে ফেলে এবং এক প্রকার চাপের মুখেই গ্রামের উপস্থিতিতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। তবে বিয়ের পর দম্পতির কণ্ঠে শোনা গেছে ভিন্ন সুর। বয়সের বিশাল ব্যবধান নিয়ে সমালোচনার জবাবে তারা জানিয়েছেন, ভালোবাসা কোনো সীমানা বা বয়স মানে না। তাদের মতে, বয়স কেবল একটি সংখ্যা মাত্র।

আদালতের দ্বারস্থ নবদম্পতি

বিয়ের পর সামাজিক ও পারিবারিক নিরাপত্তার অভাব বোধ করায় এই দম্পতি পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন। আদালতে শুনানির সময় ১৯ বছর বয়সী ওই তরুণী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা অনেককেই অবাক করেছে। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে নিজের ভালোবাসার কথা স্বীকার করেন। তরুণীটি জানান, তিনি নিজের ইচ্ছাতেই এই সম্পর্ক বেছে নিয়েছেন এবং ওই ব্যক্তির সঙ্গেই তিনি জীবনের নিরাপত্তা খুঁজে পান।

কেন এই ঘটনাটি বিশেষ আলোচনার দাবি রাখে

এই ঘটনাটি বর্তমান প্রজন্মের কাছে বিশেষ করে ‘৯০-এর দশকের মানুষের’ মধ্যে ব্যাপক বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। এর পেছনে কয়েকটি মূল কারণ বিশ্লেষকরা দেখছেন:

  • বিশাল বয়সের পার্থক্য: ৪৮ বছরের ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও বৈবাহিক সম্পর্কে জড়ানো যা বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে বিরল।
  • পূর্বতন বৈবাহিক অবস্থা: তরুণীটি বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও সব ছেড়ে এই সম্পর্কে জড়ানোর সাহসিকতা বা জেদ।
  • ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বনাম সামাজিক ট্যাবু: আইনিভাবে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় নিজের সঙ্গী বেছে নেওয়ার অধিকার থাকলেও গ্রামীণ সমাজে এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক।

এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করল যে, আবেগ এবং ব্যক্তিগত পছন্দ অনেক সময়ই প্রচলিত সামাজিক রীতিনীতিকে তোয়াক্কা করে না। তবে এই আসাম সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এবং আইনি সুরক্ষা এখন আদালতের পর্যবেক্ষণের অধীনে রয়েছে।

এক ঝলকে

  • পাত্রের বয়স: ৬৭ বছর।
  • পাত্রীর বয়স: ১৯ বছর।
  • স্থান: পাঞ্জাব।
  • ঘটনার প্রেক্ষাপট: গোপনে মাঠে দেখা করার সময় গ্রামবাসীর কাছে ধরা পড়েন তারা।
  • বর্তমান অবস্থা: নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবদম্পতি হাইকোর্টে আবেদন করেছেন।
  • মূল বার্তা: তরুণীর দাবি, তিনি স্বেচ্ছায় এবং ভালোবেসে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *