অঘোরী সেজে কোটি টাকার জালিয়াতি করে গোয়ার ক্যাসিনোয় জুয়া, গ্রেফতার ভণ্ড বাবা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মানুষের বিশ্বাস আর অসহায়তাকে পুঁজি করে কোটি কোটি টাকার প্রতারণার কারবার ফেঁদেছিল স্বঘোষিত অঘোরী তান্ত্রিক মঞ্জুনাথ শেঠি ওরফে দীক্ষিত বাবা। মুম্বই ও থানে সংলগ্ন এলাকায় তুকতাক ও কালো জাদুর ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষের থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সম্প্রতি তাকে গ্রেফতার করেছে থানে ক্রাইম ব্রাঞ্চ। তান্ত্রিক সেজে আশীর্বাদ দেওয়ার আড়ালে এটি ছিল মূলত এক সুপরিকল্পিত অপরাধমূলক চক্র।
ভয়ের বাণিজ্য ও বিলাসবহুল জীবন দীক্ষিত বাবা মূলত অসহায় ও সমস্যাগ্রস্ত মানুষদের টার্গেট করত। কারো ওপর অশুভ আত্মার প্রভাব রয়েছে, আবার কারো ব্যবসায়িক ক্ষতির দোহাই দিয়ে বিশেষ অঘোরী পূজার নামে চলত টাকা আদায়। সন্তান লাভ কিংবা রোগমুক্তির আশায় নিঃস্ব পরিবারগুলো তাদের জীবনের সঞ্চয় তুলে দিত এই ভণ্ডের হাতে। জালিয়াতির এই টাকায় মঞ্জুনাথ দামী হোটেল, বিমানে ভ্রমণ ও অত্যন্ত বিলাসবহুল জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিল।
পূজার নামে আদায় করা অর্থে ক্যাসিনোর নেশা তদন্তে নেমে পুলিশের সামনে এক চাঞ্চল্যকর সত্য উঠে এসেছে। ভক্তদের থেকে নেওয়া ধর্মীয় অনুষ্ঠানের অর্থ মূলত ব্যয় হতো গোয়ার বিলাসবহুল ক্যাসিনোগুলোতে। ক্যাসিনোয় জুয়া খেলে রাতের পর রাত লক্ষ লক্ষ টাকা ওড়াত এই ভণ্ড তান্ত্রিক। জুয়ায় হারের টাকা মেটাতে সে পুনরায় নতুন ভক্তদের ভয় দেখিয়ে অর্থ সংগ্রহ করত। শেষ পর্যন্ত গোপন খবরের ভিত্তিতে গোয়ার একটি ক্যাসিনো থেকেই তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে পুলিশ।
এই গ্রেফতারির ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়লেও আধ্যাত্মিকতার নামে এ ধরনের জালিয়াতি চক্রের বিস্তার নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পুলিশ বর্তমানে মঞ্জুনাথের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং কল লিস্ট খতিয়ে দেখছে। তদন্তকারীদের ধারণা, এই বিশাল জালিয়াতি চক্রের নেপথ্যে আরও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যোগসূত্র থাকতে পারে, যা জেরা শেষে স্পষ্ট হবে।
এক ঝলকে
- কালো জাদু ও অশুভ আত্মার ভয় দেখিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার ভণ্ড বাবা মঞ্জুনাথ শেঠি।
- ভক্তদের থেকে নেওয়া জালিয়াতির টাকা দিয়ে নিয়মিত গোয়ার ক্যাসিনোয় জুয়া খেলত এই তান্ত্রিক।
- থানে ক্রাইম ব্রাঞ্চের অভিযানে গোয়ার একটি বিলাসবহুল ক্যাসিনো থেকে তাকে পাকড়াও করা হয়েছে।
- এই প্রতারণা চক্রে কোনো প্রভাবশালীর মদত আছে কি না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
