রাশিয়া ও ইরানকে আর কোনো ছাড় নয়! বিশ্ব বাজারে তেল বিক্রি রুখতে আমেরিকার কড়া পদক্ষেপ – এবেলা

রাশিয়া ও ইরানকে আর কোনো ছাড় নয়! বিশ্ব বাজারে তেল বিক্রি রুখতে আমেরিকার কড়া পদক্ষেপ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিশ্বজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যেই রাশিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আমেরিকার অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সম্প্রতি এক ঘোষণায় স্পষ্ট করেছেন যে, ইরান ও রাশিয়ার তেল আমদানির ক্ষেত্রে আগে যে ধরনের ছাড় বা ‘ওয়েভার’ দেওয়া হতো, তার মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না। ইরানের ওপর মার্কিন অবরোধের কারণে দেশটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল রপ্তানি করতে হিমশিম খাচ্ছে। বেসেন্ট সতর্ক করে বলেছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইরানকে তাদের তেলকূপগুলো বন্ধ করতে হতে পারে, যা দেশটির অর্থনীতির জন্য এক ভয়াবহ সংকেত।

রাশিয়া ও ইরানের ওপর বাড়তি চাপ

রাশিয়ার ক্ষেত্রেও একই সুর বজায় রেখেছে ওয়াশিংটন। সমুদ্রপথে রুশ তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য বিক্রির যে সুযোগ মার্চ মাসে দেওয়া হয়েছিল, তা আর নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় বিশ্ববাজার স্থিতিশীল রাখতে গত মার্চে সাময়িক কিছু ছাড় দেওয়া হয়েছিল। তবে মার্কিন প্রশাসনের মতে, বর্তমানে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে এবং রুশ তেলের মজুতও উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছে। ফলে এখন আর ছাড় দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের প্রভাব

ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালীর অস্থির পরিস্থিতির কারণে এমনিতেই বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার এমন সিদ্ধান্ত বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ আরও কমিয়ে দিতে পারে। তবে আমেরিকা মনে করছে, এই কঠোর পদক্ষেপ রাশিয়া ও ইরানের ওপর কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে ইরান যদি তাদের তেলকূপগুলো বন্ধ করতে বাধ্য হয়, তবে সেই উৎপাদন ব্যবস্থা পুনরায় সচল করা প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও দীর্ঘমেয়াদী চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

এক ঝলকে

  • রাশিয়া ও ইরানের তেল বিক্রিতে দেওয়া বিশেষ ছাড় আর নবায়ন করবে না আমেরিকা।
  • মার্কিন অবরোধের মুখে ইরান তাদের তেল উৎপাদন কেন্দ্র বা কূপগুলো বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারে।
  • বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগে ছাড় দেওয়া হলেও বর্তমানে সেই প্রয়োজনীয়তা নেই বলে মনে করছে ওয়াশিংটন।
  • এই সিদ্ধান্তের ফলে ইরান ও রাশিয়ার অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *