৫ শিশুকে যৌন নির্যাতনের দায়ে ১ ব্যক্তিকে ৫ বার মৃত্যুদণ্ড, ৪ বার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২২ বছরের জেল: আদালতের ঐতিহাসিক রায়! – এবেলা

৫ শিশুকে যৌন নির্যাতনের দায়ে ১ ব্যক্তিকে ৫ বার মৃত্যুদণ্ড, ৪ বার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২২ বছরের জেল: আদালতের ঐতিহাসিক রায়! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

তামিলনাড়ুর শিবগঙ্গা জেলায় পাঁচ শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নজিরবিহীন কঠোর দণ্ডাদেশ শুনিয়েছে আদালত। সিঙ্গামপুনারি এলাকার বাসিন্দা চন্দ্রন নামক ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভিডিও গেম শেখানোর অছিলায় শিশুদের ওপর নৃশংস লালসা চরিতার্থ করার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। শিবগঙ্গা পকসো (POCSO) আদালত এই মামলাটিকে বিরলতম অপরাধ হিসেবে গণ্য করে দোষীকে পাঁচটি মৃত্যুদণ্ড, চারটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও বিচারপ্রক্রিয়া

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিরুপাত্তুর মহিলা থানায় চন্দ্রনের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। তদন্তে উঠে আসে যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুদের অপহরণ করে ভিডিও গেমের প্রলোভন দেখিয়ে যৌন নির্যাতন চালাত। গত দুই বছর ধরে চলা এই চাঞ্চল্যকর মামলায় পুলিশি তদন্ত ও সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে। বিচারপতি গোকুল মুরুগান রায় ঘোষণার সময় অপরাধের ভয়াবহতা বিবেচনা করে এই কঠোরতম শাস্তির নির্দেশ দেন।

ক্ষতিপূরণ ও আইনি প্রভাব

আদালত কেবল কারাদণ্ড বা ফাঁসির আদেশ দিয়েই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং ভুক্তভোগী শিশুদের সামাজিক ও মানসিক পুনর্বাসনের দিকেও বিশেষ নজর দিয়েছে। রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচটি শিশুর পরিবারকে সরকারি তহবিল থেকে ৭ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে। এই রায় সমাজে শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং পকসো আইনের কঠোর প্রয়োগ প্রদর্শনে একটি শক্তিশালী বার্তা দেবে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

এক ঝলকে

  • ভিডিও গেম শেখানোর নামে পাঁচ শিশুকে যৌন নিপীড়নের দায়ে অভিযুক্ত চন্দ্রন দোষী সাব্যস্ত।
  • শিবগঙ্গা আদালত অপরাধীকে পাঁচটি মৃত্যুদণ্ড, চারটি যাবজ্জীবন এবং ২২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে।
  • প্রতিটি ভুক্তভোগী পরিবারকে ৭ লক্ষ টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ আদালতের।
  • পকসো আইনের অধীনে এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম কঠোরতম বিচারিক রায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *