মহিলা বুথে ঢুকতেই চুল ধরে টেনে বের করে দিল! বঙ্গ নির্বাচনে প্রেম ও বিশ্বাসঘাতকতার মিশেলে হাইভোল্টেজ ড্রামা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
গণতন্ত্রের উৎসবে শামিল হতে এসে চরম অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার সাক্ষী হলেন শিলিগুড়ির ফাঁসিদেওয়া এলাকার সাধারণ ভোটাররা। গত ২৩ এপ্রিল মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি কেন্দ্রের তারাবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বুথ চত্বরে এক মহিলার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তাঁর চুল ধরে টানাহেঁচড়া শুরু করেন এক ব্যক্তি। প্রকাশ্য দিবালোকে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের সামনে এমন আকস্মিক হামলা চত্বরে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। কর্তব্যরত কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং মহিলাকে উদ্ধার করেন।
প্রেমে দহন ও ব্যক্তিগত বিবাদ
প্রাথমিক তদন্ত ও পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আক্রমণকারী ব্যক্তি এবং আক্রান্ত মহিলা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। দীর্ঘ দুই বছর ধরে তাঁরা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন। মহিলার ওপর রাগে ওই ব্যক্তি সকাল থেকেই বুথের বাইরে ওত পেতে ছিলেন। তাঁর ধারণা ছিল, এলাকা ছেড়ে চলে গেলেও ভোট দিতে মহিলা নিশ্চিতভাবেই বুথে আসবেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই তিনি মহিলার ভোটার কার্ড কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং আক্রমণাত্মক আচরণ শুরু করেন।
অধিকার ও আইনি জটিলতা
আটক হওয়ার পর ওই ব্যক্তি অদ্ভুত এক দাবি তোলেন। তাঁর যুক্তি ছিল, যেহেতু তাঁর স্ত্রী এখন অন্য জায়গায় থাকেন, তাই ভোটার কার্ডে স্বামীর নাম হিসেবে তাঁর পরিচয় থাকা পর্যন্ত তিনি ওই মহিলাকে ভোট দিতে দেবেন না। তবে নির্বাচন কমিশন ও নিরাপত্তারক্ষীরা এই অযৌক্তিক দাবি নাকচ করে দেন। কর্মকর্তাদের মতে, ব্যক্তিগত ঝগড়া বা সম্পর্কের টানাপোড়েন কোনো নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার তথা ভোটাধিকার কেড়ে নিতে পারে না। উত্তেজনার প্রায় ২০ মিনিট পর কড়া নিরাপত্তায় ওই মহিলাকে বুথের ভেতরে নিয়ে গিয়ে ভোটদানের ব্যবস্থা করা হয়।
শিলিগুড়ির এই ঘটনা প্রমাণ করে দিল যে, ব্যক্তিগত সম্পর্কের তিক্ততা অনেক সময় জনসমক্ষে আইনি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। রাজনৈতিক লড়াইয়ের ময়দান ক্ষণিকের জন্য পারিবারিক কলহের রণক্ষেত্রে পরিণত হলেও প্রশাসনের সময়োচিত হস্তক্ষেপ বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে দেয়নি। মহিলার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযুক্তকে সতর্ক করে এলাকা থেকে সরিয়ে দেয় পুলিশ।
এক ঝলকে
- শিলিগুড়ির ফাঁসিদেওয়ার ২৩৮ নম্বর বুথে ভোট দিতে এসে আক্রান্ত হলেন এক মহিলা।
- দুই বছর ধরে আলাদা থাকা স্বামী ওত পেতে থেকে স্ত্রীর ওপর আক্রমণ করেন ও চুল ধরে টানাহেঁচড়া করেন।
- ভোটার কার্ডে স্বামীর নাম ব্যবহার নিয়ে আপত্তির জেরে স্ত্রীকে ভোটদানে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন অভিযুক্ত।
- কেন্দ্রীয় বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং মহিলা কড়া নিরাপত্তায় নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
