দক্ষিণ চিন সাগরে কি এবার ঘনাচ্ছে যুদ্ধের মেঘ, চিনের দাপট রুখতে রাশিয়ার ঘাতক বিমান কিনছে ভিয়েতনাম – এবেলা

দক্ষিণ চিন সাগরে কি এবার ঘনাচ্ছে যুদ্ধের মেঘ, চিনের দাপট রুখতে রাশিয়ার ঘাতক বিমান কিনছে ভিয়েতনাম – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দক্ষিণ চিন সাগরে চিনের ক্রমবর্ধমান আধিপত্য খর্ব করতে সামরিক শক্তিতে বড়সড় রদবদল আনতে চলেছে ভিয়েতনাম। দীর্ঘদিনের পুরনো আকাশসীমা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে রাশিয়ার তৈরি সবথেকে শক্তিশালী এবং ‘প্রাণঘাতী’ পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান Su-57 কেনার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে হ্যানয়। ২০৩০ সালের শুরুর দিকেই ভিয়েতনামের বিমানবাহিনীতে এই অদৃশ্য ঘাতক বিমানগুলো যুক্ত হতে পারে, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সামরিক ভারসাম্যে আমূল পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।

আধুনিকীকরণের পথে ভিয়েতনামি বিমানবাহিনী

ভিয়েতনাম প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে তাদের বহরে থাকা সেকেলে এসইউ-২৭ এবং এসইউ-২২ যুদ্ধবিমানগুলো সরিয়ে ফেলার সময় এসেছে। সেগুলোর জায়গায় অন্তত ১২ থেকে ২৪টি রাশিয়ার অত্যাধুনিক Su-57 স্টেলথ ফাইটার জেতানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই বিমানগুলো কেবল প্রচণ্ড দ্রুতগামীই নয়, বরং শত্রুর রাডারকে ফাঁকি দিয়ে নিখুঁত আঘাত হানতে সক্ষম। বিশেষ করে দক্ষিণ চিন সাগরের বিতর্কিত জলসীমায় দীর্ঘক্ষণ টহল দেওয়ার জন্য এই বিমানের পাল্লা ও স্থায়িত্ব ভিয়েতনামের কাছে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আঞ্চলিক রাজনীতিতে এর প্রভাব

রাশিয়ার এই ‘অদৃশ্য ঘাতক’ কেনার সিদ্ধান্তের নেপথ্যে মূলত ইউক্রেন যুদ্ধে বিমানটির অর্জিত সাফল্য এবং সাশ্রয়ী রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কাজ করছে। ভারত, ইরান এবং উত্তর কোরিয়ার মতো দেশগুলোও এই বিমানের প্রতি আগ্রহ দেখালেও, চিনের প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভিয়েতনামের এই রুশ ঘনিষ্ঠতা বেজিংয়ের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সমরাস্ত্র কেনা সম্পন্ন হলে দক্ষিণ চিন সাগরে চিনের একচ্ছত্র আধিপত্য চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে, যা ওই অঞ্চলে নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জন্ম দিতে পারে।

এক ঝলকে

  • রাশিয়ার অত্যাধুনিক পঞ্চম প্রজন্মের ১২ থেকে ২৪টি Su-57 স্টেলথ যুদ্ধবিমান কিনছে ভিয়েতনাম।
  • পুরনো এসইউ-২৭ এবং এসইউ-২২ বিমানগুলোকে সরিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে এই নতুন ফাইটার জেট অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
  • স্টেলথ প্রযুক্তি ও দীর্ঘ পাল্লার সক্ষমতা দক্ষিণ চিন সাগরে ভিয়েতনামের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।
  • এই পদক্ষেপের ফলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চিন ও ভিয়েতনামের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *