ট্রাম্পের অয়েল বোমা আর হরমুজ প্রণালীতে কঠোর অবরোধ, খাদের কিনারায় ইরানের অর্থনীতি – এবেলা

ট্রাম্পের অয়েল বোমা আর হরমুজ প্রণালীতে কঠোর অবরোধ, খাদের কিনারায় ইরানের অর্থনীতি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের জ্বালানি খাতের ওপর নেমে এসেছে নজিরবিহীন সংকট। হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর নাকেবন্দি বা অবরোধের কারণে তেহরান তাদের উৎপাদিত তেল আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠাতে পারছে না। এর ফলে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, একদিকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে, অন্যদিকে ইরানে তেলের মজুদ রাখার জায়গা ফুরিয়ে আসছে। ইরানের সবচেয়ে বড় সম্পদই এখন দেশটির জন্য প্রধান বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সমুদ্রে মার্কিন শক্তির মহড়া ও রপ্তানি স্থবিরতা

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের নজরদারিতে বর্তমানে ইরানের খাগ আইল্যান্ডসহ প্রধান বন্দরগুলো থেকে তেল রপ্তানি প্রায় বন্ধ। কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তিনটি বিমানবাহী রণতরি—ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন, ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড এবং ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ—একযোগে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করেছে। ২০০-এর বেশি যুদ্ধবিমান ও হাজার হাজার সৈন্যের উপস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ইরানের কোনো ট্যাংকার পার হতে পারছে না। এর আগে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চীনসহ কিছু দেশে ইরান তেল পাঠাতে পারলেও, বর্তমান সামরিক বেষ্টনী সেই পথ পুরোপুরি রুদ্ধ করে দিয়েছে।

তেলকূপ চিরতরে বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি

রপ্তানি বন্ধ থাকলেও তেল উৎপাদন অব্যাহত থাকায় ইরানের স্টোরেজ ট্যাংকগুলো দ্রুত পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইরান তাদের পুরনো ট্যাংকারগুলোকে সমুদ্রে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছে, কিন্তু তাতেও মাত্র কয়েক দিনের উৎপাদন ধরে রাখা সম্ভব। যদি মজুদ করার জায়গা একেবারে শেষ হয়ে যায়, তবে ইরান বাধ্য হয়ে তাদের তেলের কূপগুলো বন্ধ করে দেবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলের কূপ দীর্ঘ মেয়াদে বন্ধ রাখলে ভূ-তাত্ত্বিক কারণে তা পুনরায় সচল করা আসাম্ভব হয়ে পড়ে। এতে ইরানের প্রতিদিনের কয়েক লাখ ব্যারেল উৎপাদন ক্ষমতা চিরতরে নষ্ট হয়ে যেতে পারে, যা দেশটির অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদী পঙ্গুত্ব বয়ে আনবে।

এক ঝলকে

  • হরমুজ প্রণালীতে তিনটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরি মোতায়েনের ফলে ইরানের তেল রপ্তানি প্রায় ৯৫ শতাংশ থমকে গেছে।
  • স্টোরেজ সংকটের কারণে ইরান তাদের পুরনো ট্যাংকারগুলোকে সমুদ্রে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে।
  • উৎপাদন অব্যাহত থাকায় তেলকূপগুলো চিরতরে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যা ইরানের ভবিষ্যৎ অর্থনীতিকে ধ্বংস করতে পারে।
  • সামরিক যুদ্ধের চেয়েও বড় হয়ে দেখা দিয়েছে ইরানের ‘তেল বাঁচানোর লড়াই’, যেখানে কোনো বোমা না ফেটেও দেশটি চরম বিপর্যয়ের মুখে।
Admin
  • Admin

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *