৪টি সন্তান জন্ম দিন, একজনকে আরএসএস এর স্বয়ংসেবক বানান! ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর বিতর্কিত বার্তা – এবেলা

৪টি সন্তান জন্ম দিন, একজনকে আরএসএস এর স্বয়ংসেবক বানান! ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর বিতর্কিত বার্তা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নাগপুরের এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ফের বিতর্কের জন্ম দিলেন বাগেশ্বর ধামের প্রধান ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী। দুর্গামন্দিরের ভূমিপূজন অনুষ্ঠানে ভক্তদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি আহ্বান জানান, প্রত্যেক দম্পতির উচিত চারজন সন্তান গ্রহণ করা এবং তাদের মধ্যে অন্তত একজনকে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সেবক হিসেবে গড়ে তোলা। শাস্ত্রীর এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

সনাতন ধর্ম ও আরএসএসের গুণগান

অনুষ্ঠানে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী ভারতের ক্রমবর্ধমান ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গৌরবের ওপর জোর দেন। তিনি দাবি করেন, আরএসএস কর্মীরা দুর্যোগের সময় নিজেদের জীবন বাজি রেখে মানুষের সেবা করেন। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে তিনি ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ ও স্বামী রামদাসের উদাহরণ দিয়ে জাতীয় কর্তব্য ও রাষ্ট্রসেবার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। তার মতে, আরএসএস কর্মীরা কোনো বৈষম্য ছাড়াই দেশের সেবায় নিয়োজিত থাকেন এবং তাদের আত্মত্যাগের কারণেই ভারত আজ বিশ্বমঞ্চে অনন্য পরিচিতি পেয়েছে।

সামাজিক প্রভাব ও প্রেক্ষাপট

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভারতের দীর্ঘদিনের সরকারি নীতির বিপরীতে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর এমন প্রকাশ্য মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের উসকানি দিতে পারে। একদিকে তিনি হিন্দুত্বের চেতনা ও দেশপ্রেম জাগ্রত করার কথা বললেও, অন্যদিকে চার সন্তানের তত্ত্বটি আধুনিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। শাস্ত্রীর এই বার্তা মূলত তার অনুসারীদের মধ্যে উগ্র জাতীয়তাবাদ ও ধর্মীয় সংহতি বৃদ্ধির একটি প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এক ঝলকে

  • নাগপুরে দুর্গামন্দিরের ভূমিপূজন অনুষ্ঠানে প্রতিটি পরিবারকে চারটি করে সন্তান নিতে বলেন ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী।
  • জন্ম নেওয়া সন্তানদের মধ্য থেকে অন্তত একজনকে আরএসএস-এর স্বেচ্ছাসেবক করার আহ্বান জানান তিনি।
  • দুর্যোগ মোকাবিলায় আরএসএস-এর নিঃস্বার্থ ভূমিকার প্রশংসা করে দেশসেবাকেই প্রকৃত ধর্ম হিসেবে উল্লেখ করেন।
  • শিবাজী মহারাজ ও স্বামী রামদাসের উদাহরণ টেনে ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক কর্তব্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *