আম আদমি পার্টির অন্দরে কি দুর্নীতির কালো ছায়া, রাঘব চড্ডার বিস্ফোরক দাবিতে তোলপাড় রাজনীতি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
জাতীয় রাজনীতিতে প্রবল ভূমিকম্প ঘটিয়ে আম আদমি পার্টি (আপ) থেকে ইস্তফা দিয়েছেন রাঘব চড্ডা-সহ সাত হেভিওয়েট সাংসদ। দল ছাড়ার পরপরই বিজেপিতে যোগ দিয়ে রাঘব চড্ডা সরাসরি আঙুল তুলেছেন অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নেতৃত্বের দিকে। তাঁর দাবি, আম আদমি পার্টি এখন দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে এবং দলের পুরনো ও পরিশ্রমী কর্মীদের সেখানে আর কোনো স্থান নেই। এই গণ-ইস্তফা ২০২৬ সালের দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের আগে কেজরিওয়ালের দলের ভিত নড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ব্যর্থ ড্যামেজ কন্ট্রোল ও অভ্যন্তরীণ সংকট
সাংসদদের অসন্তোষের খবর আগেভাগে পেয়ে অরবিন্দ কেজরিওয়াল পরিস্থিতি সামাল দিতে ‘ডিনার পলিটিক্স’-এর আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি জরুরি বৈঠক ডেকে পাঁচজন সাংসদকে পুনরায় রাজ্যসভায় পাঠানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই টোপ উপেক্ষা করেই রাঘব চড্ডা, হরভজন সিং, স্বাতী মালিওয়াল এবং সন্দীপ পাঠকদের মতো পরিচিত মুখগুলো পদ্ম শিবিরে নাম লেখান। রাঘবের মতে, আপ তার মূল আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে এখন কেবল ব্যক্তিকেন্দ্রিক দলে পরিণত হয়েছে।
শিশমহল বিতর্ক ও ভাবমূর্তির সংকট
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন সংস্কার নিয়ে তৈরি হওয়া ‘শিশমহল’ বিতর্ককে দল ছাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন বিদ্রোহী নেতারা। রাঘব চড্ডার দাবি, দুর্নীতির এই অভিযোগ সাধারণ মানুষের কাছে কেজরিওয়ালের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বে দুর্নীতিগ্রস্তদের দাপট বাড়ায় জনবিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়েছে, যা আগামী নির্বাচনে আপ-এর জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। সাত সাংসদের এই প্রস্থান কেবল সংখ্যাতত্ত্বের ক্ষতি নয়, বরং দলের নৈতিক পরাজয় হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- রাঘব চড্ডা ও হরভজন সিং-সহ আম আদমি পার্টির ৭ জন সাংসদ আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগদান করেছেন।
- অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আপোসহীন নীতি ও দুর্নীতির অভিযোগকে দল ছাড়ার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন রাঘব চড্ডা।
- বিদ্রোহী সাংসদদের মানাতে কেজরিওয়ালের শেষ মুহূর্তের বৈঠক ও রাজ্যসভার টোপ ব্যর্থ হয়েছে।
- ২০২৬-এর দিল্লি নির্বাচনের আগে এই ঘটনা আম আদমি পার্টির জন্য এক চরম অস্তিত্বের সংকট তৈরি করল।
