প্রেমে পড়লে কি পুরুষদের বুদ্ধি কমে যায়? বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা শুনলে চমকে উঠবেন মেয়েরা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মেয়েরা প্রায়ই অভিযোগ করেন যে প্রেমে পড়লে ছেলেরা খামখেয়ালি হয়ে যায়। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, এটি কেবল কোনো চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নয়, বরং মস্তিষ্কের জটিল রাসায়নিক পরিবর্তনের ফল। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রেমে পড়লে পুরুষের মস্তিষ্কে ডোপামিনের বন্যা বয়ে যায়, যা অনেকটা নেশাগ্রস্ত অবস্থার মতো অনুভূতি তৈরি করে। এই হরমোনের প্রভাবে তারা সারাক্ষণ সঙ্গীর চিন্তায় মগ্ন থাকেন এবং এক ধরণের ঘোরের মধ্যে সময় কাটান।
মস্তিষ্কের নিয়ন্ত্রণ ও হরমোনের খেলা
বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, প্রেমের সময় মস্তিষ্কের প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স বা বিচারবুদ্ধি নিয়ন্ত্রণকারী অংশটি সাময়িকভাবে শিথিল হয়ে পড়ে। এর ফলে পুরুষরা সঙ্গীর কোনো ত্রুটি বা ভুল সহজে দেখতে পান না, যাকে প্রচলিত ভাষায় ‘প্রেম অন্ধ’ বলা হয়। একইসাথে এই সময়ে তাদের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কিছুটা কমে যায়, যার ফলে পুরুষরা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি নম্র, শান্ত এবং আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠেন। এটি মূলত সঙ্গীর সাথে মানিয়ে নেওয়ার একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া।
বন্ধন ও সুরক্ষার প্রবৃত্তি
প্রেমের সম্পর্কে অক্সিটোসিন বা ‘কাডল হরমোন’ নিঃসরণ পুরুষদের মধ্যে দায়িত্ববোধ বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে সঙ্গীকে আগলে রাখা বা সুরক্ষা দেওয়ার প্রবৃত্তি প্রবল হয়ে ওঠে, যা দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করে। এছাড়া পুরুষরা দৃশ্যত উদ্দীপনায় বেশি সাড়া দেওয়ায় তারা সঙ্গীর চোখের দিকে তাকিয়ে থাকতে ভালোবাসেন, যা তাদের মস্তিষ্কের রিওয়ার্ড সেন্টারকে সক্রিয় করে মানসিক প্রশান্তি দেয়।
এক ঝলকে
- প্রেমে পড়লে ডোপামিনের প্রভাবে পুরুষদের মস্তিষ্কে এক ধরণের ঘোর বা নেশার মতো অনুভূতি তৈরি হয়।
- বিচারবুদ্ধি নিয়ন্ত্রণকারী অংশ ঝিমিয়ে পড়ায় পুরুষরা সঙ্গীর ত্রুটিগুলো এড়িয়ে চলেন বা দেখতে পান না।
- টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়ায় পুরুষরা আগের চেয়ে অনেক বেশি নম্র ও আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠেন।
- অক্সিটোসিন হরমোনের কারণে সঙ্গীকে সুরক্ষা দেওয়ার প্রবৃত্তি এবং গভীর মমত্ববোধ তৈরি হয়।
