পুরুষের পেটে সন্তান! হাসপাতালের আজব রিপোর্টে তুঘলকি কাণ্ড – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
উত্তরপ্রদেশের কাসগঞ্জ জেলার বাসিন্দা ২২ বছর বয়সী যুবক দর্শন পেটে অসহনীয় ব্যথা নিয়ে আলিগড়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। চিকিৎসকের পরামর্শে সানরাইজ নামক ওই হাসপাতালে তার আল্ট্রাসাউন্ড করা হয়। তবে পরীক্ষার রিপোর্টে যা উঠে এসেছে, তাতে চক্ষু চড়কগাছ যুবকের। রিপোর্টে স্পষ্টভাবে দাবি করা হয়েছে যে দর্শন অন্তঃসত্ত্বা এবং তার ফ্যালোপিয়ান টিউবে ভ্রূণ রয়েছে। এমনকি কিডনির নালিতে সংক্রমণের কথাও উল্লেখ করা হয় ওই নথিতে।
চিকিৎসা পরিষেবায় চরম গাফিলতি
একজন পুরুষের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার এমন আজব রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়। রিপোর্ট দেখে হতভম্ব যুবক মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং উপহাসের পাত্র হওয়ার ভয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। প্রাথমিকভাবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি হাসপাতালের ডেটা এন্ট্রি বা টেকনিক্যাল টিমের চরম গাফিলতি। সম্ভবত কোনো নারী রোগীর রিপোর্টের ফরম্যাট কপি-পেস্ট করতে গিয়েই এই নজিরবিহীন বিভ্রাট ঘটেছে।
আইনি পদক্ষেপ ও চিকিৎসকের স্বীকারোক্তি
ভুক্তভোগী যুবক এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিচার চেয়ে জেলাশাসক এবং মুখ্য স্বাস্থ্য কর্মকর্তার (সিএমও) দ্বারস্থ হয়েছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ডা. আলোক গুপ্ত নিজের ভুল স্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, যান্ত্রিক ত্রুটি বা অসাবধানতাবশত এই রিপোর্ট তৈরি হয়েছে। তবে সরকারি প্রশাসন বিষয়টিকে হালকাভাবে নিচ্ছে না। ওই হাসপাতালের লাইসেন্স এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার মান নিয়ে তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এক ঝলকে
- পেটে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া ২২ বছরের যুবককে প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট ধরিয়ে দিল আলিগড়ের একটি হাসপাতাল।
- আল্ট্রাসাউন্ড রিপোর্টে যুবকের ফ্যালোপিয়ান টিউবে গর্ভধারণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
- এই ঘটনায় যুবক মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়লে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এটিকে ‘কপি-পেস্ট’ জনিত ভুল বলে দাবি করে।
- জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তরে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত হাসপাতালের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।
