শান্তি আলোচনা নাকি মহাপ্রলয়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের রক্তচক্ষু ও ১ মে-র অন্তিম সময়সীমা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধের কালো মেঘ আরও ঘনীভূত হচ্ছে। শান্তি আলোচনার টেবিলে বসার জোরালো সম্ভাবনা থাকলেও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির আকস্মিক সিদ্ধান্তে বিশ্বজুড়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইসলামাবাদে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে কোনো বৈঠক না করেই তিনি ওমানের উদ্দেশে রওনা হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে, কূটনীতি কি তবে চূড়ান্ত ব্যর্থতার পথে? ১ মে-র ডেডলাইন শেষ হওয়ার আগেই এই অঞ্চলে এক বিধ্বংসী সংঘাতের আশঙ্কা তীব্রতর হচ্ছে।
ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও কূটনৈতিক অচলাবস্থা
ইসলামাবাদে মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে বৈঠকের কথা থাকলেও আরাঘচি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, চাপের মুখে আলোচনা আসাম্ভব। এই অনড় অবস্থানের নেপথ্যে ইরানের অভ্যন্তরে চরম ক্ষমতার দ্বন্দ্ব কাজ করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। একদিকে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ও আরাঘচির মধ্যপন্থী গোষ্ঠী আলোচনার মাধ্যমে বিপর্যয় এড়াতে চান, অন্যদিকে শক্তিশালী আইআরজিসি (IRGC) এই আলোচনাকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে দেখছে। সর্বোচ্চ নেতার অনুপস্থিতিতে আইআরজিসি-র এই আগ্রাসী মনোভাব শান্তি আলোচনার পথ কার্যত রুদ্ধ করে দিচ্ছে।
ট্রাম্পের আল্টিমেটাম ও যুদ্ধের রণসজ্জা
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। মার্কিন সামরিক আইন অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ৬০ দিনের বেশি যুদ্ধ চালানো সম্ভব নয়, যার সময়সীমা আগামী ১ মে শেষ হতে চলেছে। ট্রাম্প এখন দ্বিবিধ অবস্থানে রয়েছেন—হয় আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমঝোতা, নয়তো সম্পূর্ণ সামরিক ধ্বংসযজ্ঞ। ইতিমধ্যে পেন্টাগন ইরানকে ঘিরে ফেলেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলি ঘাঁটিতে ১২টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এবং পারস্য উপসাগরে ৩টি বিমানবাহী রণতরীসহ ১৫,০০০ মেরিন সেনা মোতায়েন করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড।
তেহরানও পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে ২০০০ কিলোমিটার পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। পাকিস্তান ও ওমান মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে গেলেও পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা বিশ্ব রাজনীতির জন্য অত্যন্ত সংকটময়। ১ মে-র সময়সীমা যত এগিয়ে আসছে, কূটনৈতিক সমাধানের চেয়ে কামানের গর্জন শোনার সম্ভাবনাই প্রবল হয়ে উঠছে।
এক ঝলকে
- ১ মে মার্কিন সামরিক মোতায়েনের ৬০ দিনের সময়সীমা শেষ হওয়ায় ট্রাম্পের ওপর দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার চাপ বাড়ছে।
- ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্বে আইআরজিসি-র আগ্রাসী অবস্থানের কারণে ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম।
- পারস্য উপসাগরে ৩টি রণতরী ও ২০০টি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে ইরানকে ঘিরে ফেলেছে মার্কিন বাহিনী।
- ২০০০ কিমি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ও ড্রোন উৎপাদন বাড়িয়ে যুদ্ধের প্রস্তুতি সারছে তেহরানও।
