না কোনো কথা, না কোনো সমাধান: পাকিস্তানে কেন আবার ব্যর্থ হলো আমেরিকা-ইরান শান্তি আলোচনা? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ইসলামাবাদে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তি ফেরানোর দ্বিতীয় দফার প্রচেষ্টা কোনো সুরাহা ছাড়াই শেষ হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের আমন্ত্রণে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আলোচনার জন্য পৌঁছালেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কোনো সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। শেষ মুহূর্তে নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রতিনিধিদের পাকিস্তান সফর বাতিল করায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইসলামাবাদের বড় কোনো কূটনৈতিক সাফল্যের স্বপ্ন কার্যত ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।
অচলাবস্থার নেপথ্যে অনড় অবস্থান
ইরানি প্রতিনিধি দল শুরু থেকেই স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে তারা মার্কিন প্রতিনিধিদের সাথে সরাসরি কোনো টেবিলে বসবে না। তেহরানের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের মাধ্যমে আমেরিকার কাছে একগুচ্ছ দাবি পেশ করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রধান শর্ত হলো ইরানি বন্দর এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর মনোভাব এবং ইরানের সাথে সরাসরি কথা বলার অনাগ্রহ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ট্রাম্পের কঠোর বার্তা ও ইসলামাবাদের ব্যর্থতা
এই কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দুই প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের ইসলামাবাদ সফর বাতিল করেন। ট্রাম্পের মতে, ১৮ ঘণ্টার বিমানযাত্রা করে আলোচনার কোনো যৌক্তিকতা নেই কারণ সমস্ত নিয়ন্ত্রণের চাবিকাঠি এখন আমেরিকার হাতে। পাকিস্তানের শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক নেতৃত্বের উপস্থিতিতে এই আলোচনা ফলপ্রসূ করার চেষ্টা চললেও, শেষ পর্যন্ত আমেরিকা ও ইরান—উভয় পক্ষই ইসলামাবাদকে পাশ কাটিয়ে ভিন্ন কূটনৈতিক পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছে।
আঞ্চলিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সমীকরণ
এই ব্যর্থতার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর প্রক্রিয়ায় বড়সড় ধাক্কা লেগেছে। ইরান ইতিমধ্যেই তাদের পরবর্তী আলোচনার জন্য ওমান ও রাশিয়ার দিকে নজর দিয়েছে, যা পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। আপাতত দুই দেশ সরাসরি সংঘাত এড়ানোর কথা বললেও, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও নৌ-অবরোধের মতো মৌলিক ইস্যুতে কোনো ঐকমত্য না হওয়ায় এই অঞ্চলের রাজনৈতিক অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।
এক ঝলকে
- ইসলামাবাদে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে প্রস্তাবিত সরাসরি শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে।
- ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে নৌ-অবরোধ তোলার শর্ত পাঠিয়েছেন।
- ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রতিনিধিদের পাকিস্তান সফর বাতিল করে দিয়েছেন, যা ইসলামাবাদের মধ্যস্থতাকে গুরুত্বহীন করে তুলেছে।
- সরাসরি বৈঠকের সম্ভাবনা শেষ হওয়ায় ইরান এখন ওমান ও রাশিয়ার মাধ্যমে পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা করছে।
