ভোট মিটতেই কি কর্মহীনতার আতঙ্ক? দলে দলে ভিন রাজ্যে ফিরছেন শ্রমিকেরা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন শেষ হতেই কোচবিহারের দিনহাটা মহকুমা জুড়ে শুরু হয়েছে পরিযায়ী শ্রমিকদের ভিন রাজ্যমুখী হওয়ার কর্মব্যস্ততা। শনিবার বামনহাট রেল স্টেশনে দেখা গেল সেই চেনা ছবি। দিল্লি, হরিয়ানা কিংবা গুজরাতগামী ট্রেনগুলোতে তিলধারণের জায়গা নেই। নির্বাচনের সময় যে গ্রামগুলো প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠেছিল, ভোট মিটতেই সেই এলাকাগুলো ফের পুরুষশূন্য হতে শুরু করেছে।
ভোটাধিকার রক্ষায় মরিয়া লড়াই
এবারের নির্বাচনে কোচবিহার জেলায় অভাবনীয় ৯৬.০৪ শতাংশ ভোট পড়েছে। মূলত ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কায় অনেক প্রতিকূলতা এবং আর্থিক ক্ষতি সহ্য করেই শ্রমিকেরা বাড়ি ফিরেছিলেন। তাদের মতে, নাগরিকত্ব ও নিজের অস্তিত্ব প্রমাণের তাগিদেই কাজের ক্ষেত্র ছেড়ে কয়েক দিনের জন্য ভিটেমাটিতে ফিরতে বাধ্য হয়েছিলেন তারা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রেকর্ড ভোটদানের নেপথ্যে এই পরিযায়ী শ্রমিকদের বিরাট ভূমিকা রয়েছে।
কর্মসংস্থানের অভাব ও ভবিষ্যৎ সংকট
ভোট শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কেন এই ফেরার তোড়জোড়? এই প্রশ্নের উত্তরে উঠে আসছে জেলায় স্থায়ী কর্মসংস্থানের অভাব। স্থানীয় পর্যায়ে আয়ের কোনো সুনির্দিষ্ট উৎস না থাকায় শ্রমিকেরা একদিনও বাড়িতে বসে থাকতে রাজি নন। দ্রুত কাজে না ফিরলে একদিকে যেমন আয়ের পথ বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি থাকে, অন্যদিকে ভিন রাজ্যের নিয়োগকর্তাদের রোষানলে পড়ার ভয়ও কাজ করে। এই ব্যাপক দেশান্তরের ফলে উত্তরের গ্রামগুলোতে পুনরায় কেবল বৃদ্ধ ও শিশুরাই অবশিষ্ট থাকছেন, যা স্থানীয় সামাজিক কাঠামোয় দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।
এক ঝলকে
- বিধানসভা নির্বাচন শেষ হতেই কোচবিহারের দিনহাটা থেকে শ্রমিকদের ভিন রাজ্যে ফেরার হিড়িক।
- ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার আতঙ্কে শ্রমিকেরা প্রতিকূলতা পেরিয়ে ভোট দিতে এসেছিলেন।
- কোচবিহার জেলায় এবার রেকর্ড ৯৬.০৪ শতাংশ ভোট পড়েছে।
- কর্মসংস্থানের অভাবে দ্রুত দিল্লি, হরিয়ানা ও গুজরাতের উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছেন পরিযায়ীরা।
