আয়কর রিটার্ন জমা দিতে ভুল হলেও দুশ্চিন্তার কারণ নেই! জেনে নিন সংশোধনের শেষ তারিখ এবং জরিমানার নিয়ম – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আয়কর রিটার্ন (ITR) জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ অসতর্কতা বা তথ্যগত ভুল অনেক সময় বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে আয়কর বিভাগ করদাতাদের এই ভুল সংশোধনের জন্য নির্দিষ্ট সুযোগ প্রদান করে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের (অ্যাসেসমেন্ট ইয়ার ২০২৬-২৭) জন্য আয়কর দপ্তর ইতিমধ্যেই সাতটি আইটিআর ফর্ম বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জারি করেছে। সঠিক সময়ে রিটার্ন দাখিল না করলে যেমন জরিমানা ও আইনি জটিলতার ঝুঁকি থাকে, তেমনি ভুল সংশোধনের জন্য ‘রিভাইজড রিটার্ন’ বা ‘আপডেটেড রিটার্ন’-এর মতো বিকল্পগুলিও করদাতাদের হাতে রয়েছে।
সময়সীমা ও ফর্মের ধরন
আয়কর দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, বেতনভোগী কর্মচারী ও বিনিয়োগকারীদের (যাদের ব্যবসার আয় নেই) জন্য আইটিআর-১ ও আইটিআর-২ জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩১ জুলাই ২০২৬। ছোট ব্যবসায়ী ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। তবে যাদের ট্যাক্স অডিট প্রয়োজন, তাদের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা ৩১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। কোনো কারণে মূল সময়সীমা পেরিয়ে গেলে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত জরিমানা ও সুদসহ ‘বিলেটেড রিটার্ন’ জমা দেওয়া সম্ভব। এছাড়া আগে জমা দেওয়া রিটার্নে কোনো ভুল থাকলে তা সংশোধনের জন্য ‘রিভাইজড রিটার্ন’ দাখিল করার সুযোগও ওই একই তারিখ পর্যন্ত থাকছে।
সংশোধন ও জরিমানার অংক
আয়কর আইন অনুযায়ী তিনটি পদ্ধতিতে রিটার্নের বর্তমান স্থিতি পরিবর্তন করা যায়। মূল সময়সীমা মিস করলে ধারা ১৩৯(৪) এর অধীনে বিলেটেড রিটার্ন জমা দিতে হয়, যাতে ধারা ২৩৪এফ অনুযায়ী পেনাল্টি দিতে হতে পারে। অন্যদিকে, কোনো ভুল ঠিক করতে ধারা ১৩৯(৫) এর অধীনে রিভাইজড রিটার্ন ফাইল করা যায়। যদি কোনো করদাতা উভয় সময়সীমা পার করে ফেলেন, তবে তিনি ‘আইটিআর-ইউ’ (ITR-U) বা আপডেটেড রিটার্ন ব্যবহার করে আগামী ২৪ মাস পর্যন্ত নিজের অঘোষিত আয় জানাতে পারবেন। এটি করদাতাদের বড় ধরনের আইনি জটিলতা থেকে রক্ষা পাওয়ার একটি অতিরিক্ত সুযোগ।
অগ্রিম কর ও টিডিএস ব্যবস্থাপনা
নির্ধারিত রিটার্ন ফর্ম ব্যবহারের পাশাপাশি করদাতাদের সারা বছর অ্যাডভান্স ট্যাক্স বা অগ্রিম করের কিস্তির দিকেও নজর রাখতে হয়। নির্দিষ্ট আয়ের ওপর ভিত্তি করে ১৫ জুন, ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৫ ডিসেম্বর এবং ১৫ মার্চের মধ্যে ধাপে ধাপে কর পরিশোধ করতে হয়। এছাড়া টিডিএস ও টিসিএস রিটার্ন জমার জন্যও ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে নির্দিষ্ট তারিখ ধার্য করা হয়েছে। নিয়ম মেনে সঠিক ফর্মে সঠিক সময়ে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলে করদাতারা কেবল জরিমানাই নয়, বরং সরকারের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে পাওয়া রিফান্ড বা অন্যান্য সুবিধাও নিশ্চিত করতে পারেন।
এক ঝলকে
- চাকরিজীবী ও পেনশনভোগীদের জন্য রিটার্ন জমার সাধারণ শেষ তারিখ ৩১ জুলাই ২০২৬।
- রিটার্নে ভুল থাকলে তা সংশোধনের জন্য রিভাইজড রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত।
- নির্ধারিত সময়ের পরে রিটার্ন জমা দিলে জরিমানা ও সুদ প্রদানের বিধান রয়েছে।
- আয় এবং করদাতার ক্যাটাগরি অনুযায়ী ১ থেকে ৭ নম্বর আইটিআর ফর্মগুলোর মধ্যে সঠিকটি বেছে নেওয়া বাধ্যতামূলক।
