আমি নরক দেখেছি, ১০০টি লাশ কবর দিয়ে এখন সাক্ষ্য দিতে হাজির! শরীর ঢাকা থাকলেও খোলা চোখে স্পষ্ট ফুটে উঠছিল আতঙ্ক – এবেলা

আমি নরক দেখেছি, ১০০টি লাশ কবর দিয়ে এখন সাক্ষ্য দিতে হাজির! শরীর ঢাকা থাকলেও খোলা চোখে স্পষ্ট ফুটে উঠছিল আতঙ্ক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কর্ণাটকের বিখ্যাত ধর্মস্থল মন্দিরের প্রাক্তন এক পরিচ্ছন্নতা কর্মীর সাম্প্রতিক স্বীকারোক্তি ভারতের অপরাধ জগতের অন্যতম নৃশংস অধ্যায়কে সামনে নিয়ে এসেছে। ১৯৯৫ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত কর্মরত ওই ব্যক্তি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে বয়ান দিয়েছেন যে, দীর্ঘ ১৯ বছরে তাকে প্রায় ১০০টি মৃতদেহ লোপাট করতে বাধ্য করা হয়েছিল। তার দাবি, এই দেহগুলোর অধিকাংশই ছিল নিখোঁজ হওয়া নারী ও নাবালিকাদের, যাদের ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল।

গা শিউরে ওঠা নৃশংসতা ও গোপন কবর

অভিযোগকারী জানান, মন্দিরের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নির্দেশে তাকে গভীর রাতে নির্জন স্থানে লাশ পুড়িয়ে ফেলতে বা পুঁতে রাখতে হতো। ২০১০ সালের একটি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি জানান, স্কুল ইউনিফর্ম পরা এক কিশোরীর দেহ তিনি দাফন করেছিলেন যার শরীরে পাশবিক নির্যাতনের চিহ্ন ছিল। এমনকি এসিড দিয়ে মুখ ঝলসে দেওয়া তরুণীদের লাশও তাকে গুম করতে হয়েছে। প্রাণভয়ে ২০১৪ সালে রাজ্য ছেড়ে পালিয়ে গেলেও, সম্প্রতি হাড়গোড়ের ছবি ও প্রমাণসহ তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন।

প্রভাবশালীদের যোগসূত্র ও বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি

এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসার পর রাজ্যজুড়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে যে, মন্দির প্রশাসনের সাথে যুক্ত কিছু অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি এই চক্রের মূল হোতা। ইতিমধ্যে নির্যাতিত পরিবারের সদস্যরা এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠনের দাবি জানিয়েছেন। এই ঘটনার সাথে ২০১২ সালের চাঞ্চল্যকর ‘সৌজন্য’ হত্যাকাণ্ড এবং বহু পুরনো নিখোঁজ মামলার যোগসূত্র থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এক ঝলকে

  • ধর্মস্থল মন্দিরের প্রাক্তন কর্মীর দাবি অনুযায়ী তিনি ১৯৯৮-২০১৪ সালের মধ্যে প্রায় ১০০টি লাশ গুম করেছেন।
  • নিহতদের অধিকাংশই নারী ও নাবালিকা, যাদের ওপর যৌন নির্যাতন চালানোর পর হত্যা করা হয়েছে।
  • নিজের নিরাপত্তা ও অপরাধীদের নামসহ একটি মুখবন্ধ খাম ওই ব্যক্তি আইনজীবীর মাধ্যমে জমা দিয়েছেন।
  • কর্ণাটক মহিলা কমিশন ও আইনজীবীরা উচ্চপর্যায়ের ফরেনসিক ও বিচার বিভাগীয় তদন্তের জোরালো দাবি তুলেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *