পশুসেবায় কাটল কোটি টাকার ঋণ! ৫১ হাজার পথকুকুরকে ভোজ খাইয়ে জন্মদিন পালন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে মানবতার এক অনন্য নিদর্শন স্থাপন করলেন শিবসেনা নেতা সুরেশ গুর্জর। নিজের ৫৫তম জন্মদিনে কোনো জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের পরিবর্তে তিনি বেছে নিলেন নির্বাক পশুদের সেবা করার পথ। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে প্রায় ৫১ হাজার পথকুকুরকে খাবার খাইয়ে তিনি এক নজিরবিহীন উদাহরণ তৈরি করেছেন। যেখানে শহরের রাস্তায় হামেশাই পথকুকুরদের নিগ্রহের খবর পাওয়া যায়, সেখানে এমন উদ্যোগ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।
জীবন পরিবর্তনের অলৌকিক গল্প
সুরেশ গুর্জরের এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে এক গভীর জীবন সংগ্রাম। তিনি জানান, এক সময় তিনি প্রবল অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছিলেন এবং কোটি কোটি টাকার ঋণের জালে জড়িয়ে পড়েছিলেন। সেই কঠিন সময়ে তিনি লক্ষ্য করেন যে নির্বাক পশুদের সেবা করার পর থেকেই তার জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে শুরু করে। তার বিশ্বাস, পশুদের প্রতি এই ভালোবাসা ও সেবা তাকে ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হতে সাহায্য করেছে। এই কৃতজ্ঞতাবোধ থেকেই তিনি প্রতি বছর মহাসমারোহে পশুদের ভোজনের আয়োজন করেন।
শহরজুড়ে এক বিশাল কর্মযজ্ঞ
এবারের জন্মদিনে সুরেশ তার গাড়িতে দুধ, বিস্কুট, টোস্টসহ বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য নিয়ে শহরের অলিগলি ঘুরে বেড়ান। তার গাড়ির হর্ন শোনামাত্রই পরিচিত এলাকাগুলোর কুকুররা দৌড়ে আসে। শুধু বাড়ির পালিত কুকুর নয়, বরং রাস্তায় অযত্নে থাকা প্রাণীদের পুষ্টিকর খাবার দেওয়াই ছিল তার মূল লক্ষ্য। এই কাজে তাকে সহায়তা করেন শিবসেনার অন্যান্য কর্মী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তিনি সাফ জানিয়েছেন, এই সেবা কেবল একদিনের জন্য নয় বরং আগামী দিনেও নিয়মিতভাবে এই অভিযান জারি থাকবে।
এই উদ্যোগের ফলে ইন্দোরের সাধারণ মানুষের মধ্যে পশুপ্রেম নিয়ে নতুন করে সচেতনতা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে পথকুকুরদের নিয়ে তৈরি হওয়া ভীতি বা নেতিবাচক মনোভাব দূর করতে এই ধরনের সামাজিক উদ্যোগ বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
এক ঝলকে
শিবসেনা নেতা সুরেশ গুর্জর তার ৫৫তম জন্মদিনে ৫১ হাজার পথকুকুরকে খাবার খাইয়েছেন।
ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি ও জীবনে ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে পশু সেবাকেই প্রধান কারণ বলে মনে করেন তিনি।
ইন্দোর শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দুধ, বিস্কুট ও টোস্ট বিতরণ করা হয়।
পথকুকুরদের প্রতি মানুষের সহানুভূতি বাড়ানোর লক্ষ্যে এই সামাজিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
