দশম ফেল অটোচালকের অবিশ্বাস্য জয়যাত্রা, জয়পুর থেকে জেনেভা পৌঁছানোর রূপকথা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর ভাগ্যের মেলবন্ধনে অনেক সময় সাধারণ জীবনও রূপালি পর্দার গল্পকে হার মানায়। রাজস্থানের জয়পুরের রঞ্জিত সিং রাজের জীবন ঠিক তেমনই এক দৃষ্টান্ত। অভাবের সংসার আর গায়ের রঙের কারণে ছোটবেলা থেকেই সামাজিক অবজ্ঞার শিকার হওয়া এই যুবক একসময় জয়পুরের অলিগলিতে অটো চালাতেন। মাত্র ১৬ বছর বয়স থেকে জীবিকার তাগিদে রাস্তায় নামা সেই দশম শ্রেণি অনুত্তীর্ণ যুবক আজ সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় প্রতিষ্ঠিত।
অটোচালকের প্রেম ও দীর্ঘ লড়াই
রঞ্জিতের জীবনের মোড় ঘোরে ২০০৮ সালে। বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করতে তিনি ইংরেজি শেখার চেষ্টা শুরু করেন এবং নিজের একটি ছোট ট্যুরিস্ট গাইড ব্যবসা চালু করেন। এই পেশার মাধ্যমেই তার পরিচয় হয় এক ফরাসি নারীর সঙ্গে। রাজস্থানের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান ঘুরিয়ে দেখানোর সময় তাদের মধ্যে সখ্যতা ও পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে এই পথ সহজ ছিল না। ওই নারী ফ্রান্সে ফিরে যাওয়ার পর রঞ্জিত বারবার ভিসার আবেদন করলেও প্রতিবারই তা প্রত্যাখ্যান করা হয়। শেষ পর্যন্ত দমে না গিয়ে প্রেমিকার সঙ্গে ফরাসি দূতাবাসের সামনে ধরনায় বসেন তিনি, যার ফলে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর তিনি তিন মাসের ট্যুরিস্ট ভিসা পান।
ইউরোপের মাটিতে নতুন স্বপ্ন
২০১৪ সালে সেই নারীকে বিয়ে করে স্থায়ীভাবে ইউরোপে পাড়ি জমান রঞ্জিত। বর্তমানে তিনি জেনেভার একটি রেস্তোরাঁয় কর্মরত এবং নিজস্ব একটি ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে বিশ্ব ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন। বিদেশের মাটিতে টিকে থাকতে তিনি ফরাসি ভাষাও রপ্ত করেছেন। প্রতিকূলতাকে জয় করে রঞ্জিত এখন জেনেভায় নিজের একটি রেস্তোরাঁ খোলার স্বপ্ন দেখছেন। এক সময়ের অটোচালক থেকে বিশ্ব পরিব্রাজক হয়ে ওঠার এই যাত্রা প্রমাণ করে যে, সঠিক লক্ষ্য আর পরিশ্রম থাকলে ভাগ্য বদলাতে বাধ্য।
এক ঝলকে
- অভাব ও সামাজিক গঞ্জনার মধ্যে বড় হওয়া রঞ্জিত সিং রাজ জয়পুরে দীর্ঘ সময় অটো চালিয়ে জীবন নির্বাহ করেছেন।
- পর্যটকদের গাইড হিসেবে কাজ করার সময় এক ফরাসি নারীর প্রেমে পড়েন এবং তাকে বিয়ে করে জেনেভায় পাড়ি জমান।
- ভিসা জটিলতা কাটাতে প্রেমিকার সঙ্গে ফরাসি দূতাবাসের সামনে ধরনায় বসে সফল হয়েছিলেন তিনি।
- বর্তমানে জেনেভায় কর্মরত রঞ্জিত একাধারে ইউটিউবার ও পর্যটক হিসেবে নিজের নতুন পরিচয় তৈরি করেছেন।
