বিশ্বজুড়ে বাজার চাঙ্গা, ভারত পিছিয়ে আছে! নাসডাক, নিক্কেই রেকর্ড গড়ছে, আপনি কি জানেন নিফটি কেন পিছিয়ে আছে? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিম এশীয় যুদ্ধের উত্তেজনা ছাপিয়ে বিশ্বজুড়ে শেয়ার বাজারে বইছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতের বিনিয়োগের জোয়ার। আমেরিকার নাসডাক থেকে শুরু করে জাপানের নিক্কেই—প্রতিটি সূচকই এখন রেকর্ড উচ্চতায়। অথচ এই বিশ্বজনীন উত্থানের বিপরীতে সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র ধরা পড়ছে ভারতের শেয়ার বাজারে। নিফটি ও সেনসেক্স এখনও আগের ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারেনি, যা বিনিয়োগকারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
এআই খাতে পিছিয়ে থাকার প্রভাব
বিশ্বের অন্যান্য শীর্ষ বাজারগুলো বর্তমানে এআই খাতের কো ম্পা নিগুলোর ওপর ভর করে ফুলেফেঁপে উঠছে। আমেরিকার নাসডাক সূচকের সিংহভাগ বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হলেও ভারতের নিফটিতে আইটি পরিষেবা খাতের অংশ মাত্র ১০ শতাংশ। এছাড়া এআই বা সেমিকন্ডাক্টর চিপ নির্মাণে দক্ষিণ কোরিয়া বা জাপানের মতো আধিপত্য না থাকায় বৈশ্বিক বিনিয়োগ বিপ্লবের সুফল ভারত পাচ্ছে না। এর ফলে নিফটি আইটি সূচক গত এক বছরে উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।
বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহার ও রুপির পতন
এআই প্রযুক্তিতে অপর্যাপ্ত বিনিয়োগের সুযোগ দেখে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীরা (এফপিআই) ভারতীয় বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এইচএসবিসি-র মতো সংস্থাগুলো ভারতীয় শেয়ারের রেটিং কমিয়ে দেওয়ায় বিনিয়োগকারীরা ব্যাপক হারে শেয়ার বিক্রি করছেন। শুধুমাত্র মার্চ ও এপ্রিল মাসেই কয়েক বিলিয়ন ডলার বাজার থেকে বেরিয়ে গেছে। এই বিশাল পরিমাণ পুঁজি উত্তোলনের ফলে ভারতীয় রুপির মানে রেকর্ড পতন হয়েছে, যার ফলে ২০২৬ সালে ডলারের বিপরীতে রুপির দর ৪.৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৯৪.২৬ টাকা।
জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান দাম এবং প্রযুক্তিগত রূপান্তরে ধীরগতির কারণে ভারতীয় বাজার বর্তমানে রক্ষণাত্মক অবস্থানে রয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এখন ভারতের বদলে আমেরিকা বা দক্ষিণ কোরিয়ার মতো নিরাপদ ও প্রযুক্তি-নির্ভর বাজারগুলোকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। দেশের বাজারে এআই খাতের শক্তিশালী উপস্থিতি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববাজারের এই ঊর্ধ্বমুখী দৌড়ে ভারতের শামিল হওয়া কঠিন হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এক ঝলকে
- এআই বিপ্লবের জেরে নাসডাক ও নিক্কেই রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছালেও ভারতীয় নিফটি ও সেনসেক্স গত বছরের তুলনায় পিছিয়ে আছে।
- নিফটিতে প্রযুক্তি খাতের অংশ কম হওয়ায় এবং চিপ নির্মাণে আধিপত্য না থাকায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারত ছাড়ছেন।
- এপ্রিল পর্যন্ত কয়েক বিলিয়ন ডলারের শেয়ার বিক্রির ফলে রুপির মান পড়ে ৯৪.২৬ টাকায় ঠেকেছে।
- জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং এআই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে থাকায় এইচএসবিসি ভারতের রেটিং কমিয়ে ‘আন্ডারওয়েট’ করেছে।
