১২ বছরে বিয়ে ও ১৩ তে সন্তান, এবার শোনানো হলো মৃত্যুদণ্ড! শিউরে ওঠার মতো এক বালিকা বধূর কাহিনী – এবেলা

১২ বছরে বিয়ে ও ১৩ তে সন্তান, এবার শোনানো হলো মৃত্যুদণ্ড! শিউরে ওঠার মতো এক বালিকা বধূর কাহিনী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ইরানের জাহিদানে এক হৃদয়বিদারক ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব। মাত্র ১২ বছর বয়সে অমতে বিয়ে এবং ১৩ বছরে সন্তান জন্ম দেওয়া গোলি কোহকান নামের এক নারী এখন ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে। দীর্ঘ বছর ধরে স্বামীর অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করার পর ২০১৮ সালে আত্মরক্ষার্থে স্বামীকে হত্যার অভিযোগে তাকে এই কঠোর সাজা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ২৫ বছর বয়সী এই নারীর জীবন প্রদীপ যেকোনো মুহূর্তে নিভে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।

সহিংসতার প্রতিবাদ বনাম আইনি লড়াই

বালোচ সম্প্রদায়ের সদস্য গোলি কোহকান শৈশব থেকেই চরম বৈষম্য ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার ছিলেন। বড় হয়ে ওঠার স্বাভাবিক অধিকার হারিয়ে তিনি হয়েছিলেন ঘরোয়া সহিংসতার লক্ষ্যবস্তু। অভিযোগ রয়েছে, ২০১৮ সালে যখন তার স্বামী তার ৫ বছর বয়সী সন্তানকে নির্দয়ভাবে মারধর শুরু করেন, তখন নিজের সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে গোলি চরম পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হন। তবে ইরানের বিচারব্যবস্থায় তার এই আত্মরক্ষার আরজি গুরুত্ব পায়নি, বরং তাকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ও মুক্তিপণ বিতর্ক

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা এই রায়কে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, গোলি কোহকান যথাযথ আইনি সহায়তা পাননি এবং তার ওপর জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ের চাপ দেওয়া হয়েছে। ইরানের প্রচলিত ‘দিয়াত’ বা ব্লাড মানি প্রথা অনুযায়ী ৯০ হাজার ডলার (প্রায় ৮১ লাখ টাকা) পরিশোধ করলে তার মৃত্যুদণ্ড মওকুফ হতে পারে। কিন্তু একজন দরিদ্র ও নিরক্ষর নারীর পক্ষে এই বিশাল অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করা আসাম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মানবাধিকারের সংকট ও প্রভাব

এই ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে বাল্যবিবাহ এবং নারী অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গোলির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে তা আন্তর্জাতিক মহলে ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর আরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ঘরোয়া সহিংসতার শিকার নারীদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত না করে তাদের দণ্ড দেওয়া বিচারব্যবস্থার বড় ধরনের ব্যর্থতা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

এক ঝলকে

  • ১২ বছর বয়সে বিয়ে ও ১৩ বছরে মা হওয়া গোলি কোহকান ইরানে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি।
  • স্বামীর দীর্ঘদিনের নির্যাতন ও সন্তানের ওপর হামলার প্রতিবাদ করতে গিয়ে খুনের অভিযোগে তিনি দোষী সাব্যস্ত।
  • প্রাণ বাঁচাতে ৯০ হাজার ডলার ব্লাড মানি চাওয়া হলেও তা পরিশোধ করার সামর্থ্য নেই তার পরিবারের।
  • জাতিসংঘ এই রায়কে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও লিঙ্গ সমতার পরিপন্থী বলে সতর্ক করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *