মতুয়াদের নাগরিকত্বের গ্যারান্টি দিয়ে ঠাকুরনগরে মোদির হুঙ্কার, পাল্টাপাল্টি তোপে সরগরম সীমান্ত রাজনীতি – এবেলা

মতুয়াদের নাগরিকত্বের গ্যারান্টি দিয়ে ঠাকুরনগরে মোদির হুঙ্কার, পাল্টাপাল্টি তোপে সরগরম সীমান্ত রাজনীতি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যের দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে গাইঘাটার ঠাকুরনগর মতুয়া ঠাকুরবাড়িতে নির্বাচনী জনসভা থেকে বড় ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশের সমস্ত মতুয়া শরণার্থীকে পূর্ণ নাগরিকত্ব দেওয়ার ‘গ্যারান্টি’ দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, একজন ভারতীয় নাগরিক হিসেবে প্রাপ্য সমস্ত অধিকারই পাবেন মতুয়ারা। মূলত ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে মতুয়াদের একাংশের ক্ষোভ প্রশমন এবং সিএএ ইস্যুতে তৃণমূলের বিরোধিতাকে আক্রমণ করাই ছিল প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মূল লক্ষ্য।

নাগরিকত্ব বনাম ডিটেনশন ক্যাম্পের লড়াই

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে সাফ জানিয়েছেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল রাজনৈতিক স্বার্থে সিএএ-র বিরোধিতা করছে। পাশাপাশি অনুপ্রবেশকারীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ৪ জুন ভোট গণনার পর অবৈধভাবে আসা ব্যক্তিদের দেশ ছাড়তে হবে। তাঁর মতে, তৃণমূল মা-মাটি-মানুষের কথা ভুলে গিয়ে সিন্ডিকেট আর অনুপ্রবেশকারীদের মদত দিচ্ছে। তবে মতুয়াদের বড় অংশ এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম বাদ যাওয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না পেয়ে কিছুটা হতাশ।

তৃণমূলের পাল্টা আক্রমণ ও রাজনৈতিক প্রভাব

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক তর্জা তুঙ্গে উঠেছে। তৃণমূল সাংসদ মমতা ঠাকুর দাবি করেছেন, মোদির দেওয়া এই নাগরিকত্বের গ্যারান্টি আসলে মতুয়াদের ‘ডিটেনশন ক্যাম্পে’ পাঠানোর গ্যারান্টি। তাঁর মতে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে বিজেপি বিভাজনের রাজনীতি করছে। অন্যদিকে, শান্তনু ঠাকুর এই বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে একে মতুয়াদের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলে বর্ণনা করেছেন। লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে সীমান্তঘেঁষা এই অঞ্চলে নাগরিকত্ব ইস্যুই যে প্রধান চালিকাশক্তি হতে চলেছে, তা প্রধানমন্ত্রীর এদিনের বক্তব্যে আরও স্পষ্ট হয়েছে।

এক ঝলকে

  • ঠাকুরনগরে মতুয়াদের ভারতীয় নাগরিকত্বের সমস্ত সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
  • সিএএ বিরোধিতার জন্য তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করে অনুপ্রবেশকারীদের ৪ জুনের মধ্যে দেশ ছাড়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
  • তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই গ্যারান্টিকে ‘ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানোর ফাঁদ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
  • ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া ও এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে স্থানীয় মতুয়াদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *