নদীয়ার সভায় মমতাকে তীব্র আক্রমণ অমিত শাহের, অনুপ্রবেশ ও সন্ত্রাস ইস্যুতে কড়া বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কৃষ্ণনগরের হাই-প্রোফাইল নির্বাচনী লড়াইয়ে বিজেপি প্রার্থী অমৃতা রায়ের সমর্থনে জনসভায় এসে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। জাতীয় নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশ ইস্যুকে হাতিয়ার করে তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূলের শাসনামলে সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে নরম মনোভাব দেখানো হয়েছে। শাহের দাবি, যেখানে নরেন্দ্র মোদী সরকার সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের মাধ্যমে কড়া জবাব দেয়, সেখানে অতীতে বিরোধী জোট ও দিদির সহযোগীরা জঙ্গিদের তোষণ করেছেন। তাঁর ভাষায়, এক সময় জঙ্গিদের বিরিয়ানি খাওয়ানো হতো, যা বর্তমান জমানায় আসাম্ভব।
অনুপ্রবেশ রোধ ও সিএএ নিয়ে প্রতিশ্রুতি
সীমান্তবর্তী জেলা নদীয়ার জনসভায় অনুপ্রবেশ ইস্যুকে রাজনৈতিক হাতিয়ার করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে অনুপ্রবেশকারীদের প্রশ্রয় দিচ্ছেন বলে তোপ দেগে তিনি দাবি করেন, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে বা শক্তিশালী হলে সীমানা দিয়ে একটি পাখিও প্রবেশ করতে পারবে না। একই সঙ্গে মতুয়া অধ্যুষিত এই অঞ্চলে সিএএ (CAA) নিয়ে বিরোধীদের প্রচারকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর বলে উড়িয়ে দিয়ে নাগরিকত্ব প্রদানের বিষয়ে নিশ্চয়তা দেন তিনি।
সন্দেশখালি ও দুর্নীতির অভিযোগ
বক্তব্যের বড় অংশ জুড়ে ছিল সন্দেশখালির প্রসঙ্গ এবং রাজ্যের নারী নিরাপত্তা। শাহ অভিযোগ করেন, শাহজাহান শেখের মতো ব্যক্তিদের আড়াল করতে চেয়েছিল রাজ্য প্রশাসন, কিন্তু কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ ও আদালতের কড়াকড়িতেই অপরাধীদের দমানো সম্ভব হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কৃষ্ণনগরে মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে রাজমাতা অমৃতা রায়কে জেতাতে অমিত শাহের এই ‘আক্রমণাত্মক’ কৌশল মেরুকরণ ও নিরাপত্তা ইস্যুকে ভোটারদের সামনে প্রধান করে তুলবে।
এক ঝলকে
- জঙ্গিদের বিরিয়ানি খাওয়ানোর খোঁচা দিয়ে তৃণমূলের তোষণ নীতিকে আক্রমণ করলেন অমিত শাহ।
- অনুপ্রবেশ রুখতে এবং সিএএ কার্যকর করতে মোদী সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা স্মরণ করান।
- সন্দেশখালি ইস্যু তুলে ধরে রাজ্যের নারী নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে শাসকদলকে বিঁধলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
- কৃষ্ণনগরের রাজনৈতিক লড়াইকে দেশের নিরাপত্তা বনাম ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির সংঘাত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
