নির্বাচন কমিশনের সুরক্ষায় আস্থা নেই! ডোমকলে স্ট্রংরুম পাহারায় সিসি ক্যামেরা বসাল সব পক্ষই

প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শেষ হতেই ইভিএমের নিরাপত্তা নিয়ে নজিরবিহীন তৎপরতা শুরু হয়েছে মুর্শিদাবাদের ডোমকলে। সাধারণত স্ট্রংরুমের পাহারায় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব নজরদারি ব্যবস্থা থাকলেও, এবার তাতে পূর্ণ আস্থা রাখতে পারছেন না রাজনৈতিক প্রার্থীরা। ফলে জলঙ্গি, ডোমকল ও রানিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের ইভিএম যেখানে রাখা হয়েছে, সেই ডোমকল গার্লস কলেজের স্ট্রংরুমের বাইরে নিজস্ব উদ্যোগে সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়েছে তৃণমূল, কংগ্রেস ও সিপিএম।
ত্রিস্তরীয় নজরদারি ও অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম
ভোটযন্ত্রের সুরক্ষায় কোনো ফাঁক রাখতে চাইছে না কোনো পক্ষই। স্ট্রংরুম থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে প্রতিটি দল পৃথক অস্থায়ী তাঁবু তৈরি করেছে। সেখানে টিভি মনিটর, হার্ডডিস্ক ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বসিয়ে রীতিমতো কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। চব্বিশ ঘণ্টা পালা করে দলীয় কর্মীরা সেখানে বসে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করছেন। স্ট্রংরুমের আশেপাশে কোনো সন্দেহজনক গতিবিধি বা অনভিপ্রেত যাতায়াত ঘটছে কিনা, তার ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
সংশয় ও রাজনৈতিক ঐকমত্য
প্রশাসনের কড়া প্রহরা সত্ত্বেও কেন এই বাড়তি সতর্কতা, তা নিয়ে প্রার্থীদের বক্তব্যে স্পষ্ট সংশয় ধরা পড়েছে। রানিনগরের তৃণমূল প্রার্থী সৌমিক হোসেন এবং কংগ্রেস প্রার্থী জুলফিকার আলি উভয়েই জানিয়েছেন, কোনো ধরনের ঝুঁকি এড়াতেই এই ব্যবস্থা। অন্যদিকে বামপ্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমানও কর্মীদের মোতায়েন ও ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু করেছেন। এই ঘটনা নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও প্রশাসনিক নিরাপত্তার ওপর রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থাহীনতার বিষয়টিকেই সামনে এনেছে।
নিজেদের প্রযুক্তি ও জনবল ব্যবহার করে এই নজরদারি ভোট পরবর্তী গণনার দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইভিএম কারচুপির আশঙ্কা থেকেই শাসক ও বিরোধী শিবির একযোগে এই নজিরবিহীন পাহারার পথ বেছে নিয়েছে, যা আগামী দিনে রাজ্যের নির্বাচনী সংস্কৃতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
এক ঝলকে
- ডোমকল গার্লস কলেজের স্ট্রংরুমে ইভিএম পাহারায় নিজস্ব সিসি ক্যামেরা বসাল তৃণমূল, কংগ্রেস ও সিপিএম।
- কমিশনের নিরাপত্তার ওপর ভরসা না পেয়ে দলগুলো নিজেরাই অস্থায়ী তাঁবু ও মনিটর বসিয়ে নজরদারি চালাচ্ছে।
- রানিনগর, জলঙ্গি ও ডোমকল— এই তিন বিধানসভা কেন্দ্রের ভাগ্য নির্ধারণকারী ইভিএম রয়েছে এই স্ট্রংরুমে।
- গণনার দিন পর্যন্ত চব্বিশ ঘণ্টা পালা করে দলীয় কর্মীদের পাহারায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
