কে এই মহিলা, এখানে কেন এনেছ একে? প্রেমিকার হাত ধরে ফিরল স্বামী, স্ত্রী প্রশ্ন করতেই দুই অবুঝ সন্তানের সামনে তাকে খুন! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিহারের বৈশালীতে পরকীয়া প্রেমের জেরে এক গৃহবধূকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। কাজীপুর থানা এলাকার অসাধরপুর গ্রামে অভিযুক্ত সুমন কুমার তার প্রেমিকার সঙ্গে হাত ধরাধরি করে বাড়িতে প্রবেশ করলে স্ত্রী গুঞ্জা দেবী তার প্রতিবাদ করেন। এই বিবাদ চরম আকার ধারণ করলে দুই সন্তান ও প্রেমিকার সামনেই স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে অভিযুক্ত স্বামী।
নৃশংসতার সাক্ষী দুই নিষ্পাপ শিশু
ঘটনার রাতে স্বামী তার প্রেমিকাকে নিয়ে ঘরে আসায় গুঞ্জা দেবী তার বাবার বাড়িতে ফোন করে বিষয়টি জানান। অভিযোগ উঠেছে, নিজের কুকীর্তি ফাঁস হওয়ার ভয়ে সুমন ও তার প্রেমিকা মিলে গুঞ্জা দেবীকে পিটিয়ে ও ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করে। এরপর অভিযুক্তরা পালিয়ে গেলেও সারারাত মায়ের মরদেহের পাশে বসে কান্নাকাটি করছিল তাদের দুই ছোট সন্তান। পরদিন সকালে গ্রামবাসীরা ঘরে ঢুকে এই হাড়হিম করা দৃশ্য দেখতে পান।
পুলিশি তদন্ত ও বর্তমান পরিস্থিতি
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। প্রাথমিক তদন্তে মৃতার গলায় দাগ পাওয়া গেছে, যা শ্বাসরোধের প্রমাণ দেয়। পাঁচ বছর আগে ধুমধাম করে হওয়া এই পরিণয় যে এমন করুণ পরিণতি পাবে, তা ভাবতেও পারছেন না স্বজনরা। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার প্রভাব ও আইনি পদক্ষেপ
এই হত্যাকাণ্ড কেবল একটি অপরাধ নয়, বরং সামাজিক অবক্ষয় ও পরকীয়ার ভয়ংকর রূপকে সামনে এনেছে। অভিযুক্ত সুমন ও তার প্রেমিকাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ একাধিক স্থানে অভিযান চালাচ্ছে। মা হারানো শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তাদের পরিবার। পুলিশ জানিয়েছে, বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং দ্রুতই আসামিদের আইনের আওতায় আনা হবে।
এক ঝলকে
- বিহারের বৈশালীতে পরকীয়া সম্পর্কের জেরে স্ত্রীকে খুনের অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে।
- বাড়িতে প্রেমিকার উপস্থিতির প্রতিবাদ ও বাপের বাড়িতে ফোন করাই কাল হলো গৃহবধূর।
- খুনের পর প্রেমিকাকে নিয়ে স্বামী পলাতক, সারারাত মায়ের লাশের পাশে বসে কাঁদল দুই শিশু।
- ময়নাতদন্তের রিপোর্টে শ্বাসরোধের প্রমাণ, আসামিদের খোঁজে পুলিশের তল্লাশি জারি।
