রেকর্ড ভোটে পরিবর্তনের হাওয়া নাকি হ্যাটট্রিক? প্রথম দফার শেষে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। রেকর্ড পরিমাণ ভোটদানকে হাতিয়ার করে জয়ের ব্যাপারে ব্যাপক আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে বিজেপি শিবির। গেরুয়া শিবিরের দাবি, বিপুল সংখ্যক মানুষের এই অংশগ্রহণ আসলে শাসকদলের বিরুদ্ধে পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত। প্রথম দফার এই উচ্চ হারকে রাজ্যের ভবিষ্যৎ রাজনীতির নতুন মোড় হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
বিজেপির পরিবর্তনের ডাক ও তৃণমূলের পাল্টা দাবি
বিজেপির বিহার সভাপতি সঞ্জয় সারোগি দাবি করেছেন, প্রথম দফায় ৯২.৩৫ শতাংশ ভোটদানই প্রমাণ করে যে মানুষ বর্তমান সরকারের ওপর বীতশ্রদ্ধ। তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে উন্নয়ন নিশ্চিত করতে মানুষ পরিবর্তনের পক্ষেই রায় দিয়েছে। একই সুরে বিজেপি নেতা রামকৃপাল যাদবও পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ভোটারদের এই দীর্ঘ লাইন আসলে শাসক শিবিরের প্রতি অনাস্থার বহিঃপ্রকাশ।
অন্যদিকে, বিজেপির এই দাবিকে ‘বহিরাগতদের আস্ফালন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তন্ময় ঘোষ পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছেন, ৪ মে ফলাফল প্রকাশের পর বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতাদের আর বাংলায় খুঁজে পাওয়া যাবে না। তৃণমূলের দাবি, তারা এবার ২৩০ থেকে ২৫০টি আসন নিয়ে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরবে এবং মানুষের আশীর্বাদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই রয়েছে।
ভোটের হার ও আগামীর প্রভাব
প্রথম দফার এই নজিরবিহীন ভোটদান পরবর্তী দফায় ভোটারদের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা তৈরি করতে পারে। বিজেপি যেখানে পরিবর্তনের হাওয়ায় জয়ের হ্যাটট্রিক দেখছে, তৃণমূল সেখানে নিজেদের উন্নয়ন ও সাংগঠনিক শক্তিতে ভর করে ক্ষমতা ধরে রাখতে মরিয়া। আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ এবং ৪ মে চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারিত করবে বাংলার মসনদ কার দখলে যাবে।
এক ঝলকে
- প্রথম দফার নির্বাচনে ৯২.৩৫ শতাংশ রেকর্ড ভোটদানকে পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে বিজেপি।
- বিজেপি নেতারা দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে রাজ্যবাসী এবার পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিজেপিকে বেছে নেবে।
- তৃণমূল কংগ্রেস পাল্টা ২৩০ থেকে ২৫০টি আসনে জয়ের দাবি করে বিজেপির অভিযোগকে নাকচ করেছে।
- আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোট এবং ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
