১০ বছর পর সাধু সেজে ফিরল স্বামী, চিনতেই পারল না স্ত্রী! রাতেই ঘটাল কাণ্ড যা দেখে চক্ষু চড়কগাছ সকলের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দীর্ঘ এক দশকের বিচ্ছেদ আর পারিবারিক কলহের এক রক্তক্ষয়ী পরিণতি দেখল দিল্লির নেব সরাই এলাকা। বিহার থেকে সাধুর ছদ্মবেশে এসে নিজের স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ৬০ বছর বয়সী প্রমোদ কুমার ঝা ওরফে প্পপুর বিরুদ্ধে। এই নৃশংস ঘটনায় বিহার থেকে দিল্লি পর্যন্ত ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
ছদ্মবেশে খুনের নীল নকশা
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে যে, প্রমোদ কুমার ঝা তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য কঠোর গোপনীয়তা বজায় রেখেছিলেন। গত ১ আগস্ট বিহারের মুঙের জেলা থেকে তিনি দিল্লিতে আসেন। পরিবারের সদস্যদের চোখে ধুলো দিতে এবং বাড়িতে প্রবেশের অনুমতি পেতে তিনি গেরুয়া বসন পরে সাধুর সাজ ধারণ করেন। ১০ বছর পর তাকে এই বেশে দেখে শুরুতে চিনতে পারেননি স্বয়ং তার স্ত্রী কিরণ ঝা। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
এক দশকের দীর্ঘ বিবাদ
নিহত কিরণ ঝা (৫০) গত ১০ বছর ধরে তার স্বামী প্রমোদের থেকে আলাদা থাকতেন। জানা গেছে, ক্রমাগত পারিবারিক কলহ এবং প্রমোদের দ্বারা হওয়া গার্হস্থ্য হিংসার কারণেই তিনি আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। দিল্লির নেব সরাই এলাকায় নিজের ছেলে , পুত্রবধূ কমল ঝা এবং নাতনির সাথে বসবাস করছিলেন কিরণ। দীর্ঘ সময় এক হাজার কিলোমিটার দূরত্বে থাকলেও প্রমোদের ক্ষোভ কমেনি, যার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটে বুধবার ভোরে।
রক্তমাখা ভোর ও পুলিশের তৎপরতা
বুধবার ভোর ৪টের দিকে পুত্রবধূ প্রথম তার শাশুড়িকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার চিৎকার শুনে পরিবারের অন্য সদস্যরা ছুটে আসেন এবং পুলিশে খবর দেওয়া হয়। দক্ষিণ দিল্লির ডিসিপি অঙ্কিত চৌহান জানান, অভিযুক্ত প্রমোদ হাতুড়ি দিয়ে কিরণের মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করে। পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে এবং তার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে।
কেন এই হত্যাকাণ্ড
তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, দীর্ঘ সময় আলাদা থাকা এবং পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রমোদের মনে গভীর আক্রোশ জমা হয়েছিল। সেই প্রতিশোধ নিতেই তিনি বিহার থেকে দিল্লি পাড়ি দেন। পরিবারের বিশ্বাস অর্জন করে ঘরে ঢোকার পর সুযোগ বুঝে মাঝরাতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটান।
এক ঝলকে
- ঘটনার স্থান: নেব সরাই এলাকা, দক্ষিণ দিল্লি।
- নিহত: কিরণ ঝা (৫০), যিনি ১০ বছর ধরে স্বামীর থেকে আলাদা ছিলেন।
- অভিযুক্ত: প্রমোদ কুমার ঝা (৬০), বিহারের মুঙেরের বাসিন্দা।
- কৌশল: সাধুর ছদ্মবেশ ধারণ করে বাড়িতে প্রবেশ।
- অস্ত্র: হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত।
- বর্তমান অবস্থা: অভিযুক্ত গ্রেফতার, দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
