মোদীর হাতে শক্তি ও উত্তম, বাঙালির আবেগ ছুঁতে বিজেপির নয়া কৌশল – এবেলা

মোদীর হাতে শক্তি ও উত্তম, বাঙালির আবেগ ছুঁতে বিজেপির নয়া কৌশল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতার জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাতে কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কাব্যগ্রন্থ এবং মহানায়ক উত্তম কুমারের প্রতিকৃতি তুলে দিয়ে রাজ্য বিজেপি এক বিশেষ রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছে। শমীক ভট্টাচার্যের এই উদ্যোগের মাধ্যমে গেরুয়া শিবির বোঝাতে চাইছে যে, তারা কেবল একটি রাজনৈতিক দল নয়, বরং বাঙালির সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের অংশীদার। উপস্থিত জনতা এবং প্রবীণ সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো, যা মোদীকে ‘ঘরের মানুষ’ হিসেবে উপস্থাপনের প্রচেষ্টাকে সফল করেছে।

সাংস্কৃতিক অস্মিতার রাজনীতি

বাঙালির মন জয় করতে ভাষা, সাহিত্য এবং চলচ্চিত্রের প্রভাব অনস্বীকার্য। রবীন্দ্র-নজরুল থেকে শুরু করে বাঙালির খাদ্যাভ্যাস—এই সবকিছুর মিশেলে বিজেপি তাদের রাজনৈতিক দর্শনকে সাধারণ মানুষের অন্দরমহলে পৌঁছে দেওয়ার কৌশল নিয়েছে। প্রথাগত রাজনীতির বাইরে গিয়ে সংস্কৃতির হাত ধরে জনমানসে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোই এখন দলটির মূল লক্ষ্য। একে কেবল ভোট পাওয়ার কৌশল নয়, বরং বাঙালির ‘অস্মিতা’ বা আত্মপরিচয়ের সাথে একাত্ম হওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।

প্রভাব ও সুদূরপ্রসারী কৌশল

এই ধরণের প্রচারণার ফলে বিজেপির প্রতি বাঙালির দীর্ঘদিনের ‘বহিরাগত’ তকমা ঘুচতে শুরু করেছে। শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের মতো আধুনিক কবি বা উত্তম কুমারের মতো চিরকালীন আবেগকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে মানসিক নৈকট্য তৈরি হচ্ছে। রাজনৈতিক দর্শনের সাথে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এই মেলবন্ধন আগামী দিনে বাংলার নির্বাচনী লড়াইয়ে বিজেপিকে একটি বিশেষ সুবিধা দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এক ঝলকে

  • প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাতে শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের বই ও উত্তম কুমারের ছবি তুলে দিয়েছে বিজেপি।
  • বাঙালির সাংস্কৃতিক আইকনদের ব্যবহার করে নিজেদের ‘ঘরের মানুষ’ হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা।
  • রাজনৈতিক দর্শনের সাথে বাঙালির আবেগ ও অস্মিতাকে যুক্ত করার অভিনব কৌশল।
  • এর মাধ্যমে জনমানসে বিজেপির গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন তৈরির লক্ষ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *