ভারতের এই নদীতেও পাওয়া যায় সোনার কণা! কোথায় গেলে মিলবে অমূল্য এই রত্ন?

প্রকৃতির রহস্যময় ভাণ্ডারে দামী ধাতু সোনার উপস্থিতি সবসময়ই মানুষের কৌতূহল জাগায়। দক্ষিণ থাইল্যান্ডের ‘গোল্ড মাউন্টেন’ সংলগ্ন নদী থেকে শুরু করে ভারতের ঝাড়খণ্ডের সুবর্ণরেখা, নদীর বালু ও কাদার স্তরে মিশে থাকা সোনার কণা এখন বহু মানুষের জীবনধারণের অবলম্বন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া সীমান্তবর্তী অঞ্চলে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিদিন ঝোলা ও সরঞ্জাম নিয়ে হাজির হন এই বহুমূল্য ধাতুর সন্ধানে।
জীবনযুদ্ধের নতুন হাতিয়ার
করোনা-পরবর্তী সময়ে অর্থনৈতিক সংকট ও কর্মসংস্থান হ্রাসের ফলে এই নদীগুলো অনেকের কাছেই ‘পার্ট-টাইম’ আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে। থাইল্যান্ডের স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, হাড়ভাঙা খাটুনি আর কাদার মধ্যে নিবিড় অনুসন্ধানের পর যে সামান্য পরিমাণ সোনা পাওয়া যায়, তা দিয়ে অন্তত একবেলার অন্নের সংস্থান হয়। কোনো কোনো নারী মাত্র ১৫ মিনিটের প্রচেষ্টায় প্রায় আড়াইশ টাকার সমপরিমাণ সোনা খুঁজে পাচ্ছেন, যা বর্তমান বাজারে কর্মহীন মানুষের কাছে এক বড় আশীর্বাদ।
ভারতের স্বর্ণরেখা ও খনির রহস্য
কেবল বিদেশেই নয়, ভারতের ঝাড়খণ্ড ও সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার ওপর দিয়ে প্রবাহিত সুবর্ণরেখা নদীও একই বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। স্থানীয় লোকগাথা ও গবেষকদের মতে, সুবর্ণরেখার উপনদী ‘করকরি’ থেকে ভেসে আসা সোনার কণাগুলো এই নদীর বালিতে সঞ্চিত হয়। বছরের পর বছর ধরে স্থানীয় গ্রামবাসীরা ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে বালি ছেঁকে এই সোনার কণা সংগ্রহ করে চলেছেন। ভূতাত্ত্বিকদের মতে, এই নদীগুলোর উৎসস্থলে স্বর্ণখনি বা স্বর্ণগর্ভ শিলাস্তরের উপস্থিতির কারণেই জলতে এ ধরনের ধাতব কণা পাওয়া যায়।
এক ঝলকে
- থাইল্যান্ডের ‘গোল্ড মাউন্টেন’ ও ভারতের সুবর্ণরেখা নদীতে প্রাকৃতিকভাবে সোনার কণা পাওয়া যাচ্ছে।
- চরম অর্থনৈতিক সংকটে থাকা স্থানীয় মানুষেরা এই নদী থেকে সোনা আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
- দীর্ঘ সময় নদীগর্ভের কাদা ও বালি ছেঁকে সামান্য কয়েক গ্রাম সোনা পাওয়া সম্ভব হচ্ছে।
- ভৌগোলিক কারণে খনি অঞ্চল থেকে বৃষ্টির জলতে ধুয়ে আসা সোনা এই নদীগুলোর বালিতে জমা হয়।
