নিজের মেয়েকে বিয়ের অপরাধে শ্রীঘরে বাবা, আসল রহস্য ফাঁস করল ডিএনএ রিপোর্ট

২০১৮ সালে নিজের জন্মদাতা বাবার সাথে বৈবাহিক সম্পর্কে জড়িয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিলেন আমেরিকার নেব্রাস্কার বাসিন্দা সামান্থা। সতেরো বছর বয়সে প্রথমবার বাবা ট্র্যাভিস ফিল্ডগ্রোভের দেখা পান তিনি, যার তিন বছর পরই তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। রক্ত সম্পর্কের আত্মীয়ের মধ্যে এই বিয়ে আইনত দণ্ডনীয় হওয়ায় দ্রুতই বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে এবং ট্র্যাভিসকে গ্রেফতার করা হয়।
আদালতে ডিএনএ বিতর্ক ও সাজা
শুনানি চলাকালীন তারা নিজেদের মধ্যে কোনো রক্ত সম্পর্ক নেই বলে দাবি করলেও আদালতের নির্দেশে করা ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত হয় যে, ট্র্যাভিসই সামান্থার জন্মদাতা পিতা। এই বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে অজাচার ও অবৈধ বিবাহের অভিযোগে তাকে কঠোর কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে আদালত এই সম্পর্ককে অমানবিক ও দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে আখ্যা দেয়।
ট্র্যাভিসের অপরাধী অতীত ও সামান্থার বর্তমান
তদন্তে দেখা গেছে, ট্র্যাভিসের অপরাধের তালিকা দীর্ঘ; যার মধ্যে শিশু নির্যাতন, জালিয়াতি এবং মত্ত অবস্থায় গাড়ি চালানোর মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের নভেম্বরে তাকে আরও তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, সেই বিভীষিকাময় অতীত পেছনে ফেলে সামান্থা এখন নতুন জীবন শুরু করেছেন। বর্তমানে তিনি নেব্রাস্কার একটি গ্রামে তার কন্যা ও হবু স্বামীর সাথে বসবাস করছেন এবং ট্র্যাভিসের সাথে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন।
এক ঝলকে
- ২০১৮ সালে নিজের মেয়েকে বিয়ে করে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়েন মার্কিন নাগরিক ট্র্যাভিস ফিল্ডগ্রোভ।
- নিজেদের রক্ত সম্পর্ক নেই দাবি করলেও ডিএনএ পরীক্ষায় ট্র্যাভিস জন্মদাতা বাবা হিসেবে প্রমাণিত হন।
- অজাচার ও শিশু নির্যাতনের দায়ে অভিযুক্ত ট্র্যাভিস বর্তমানে ২০২৫ সালের নতুন সাজাসহ কারাভোগ করছেন।
- অতীতের সেই বিভীষিকা কাটিয়ে সামান্থা বর্তমানে অন্য একজনের সাথে নতুন করে সংসার গড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
