আইন কি কেবলই কোটিপতি হওয়ার সিঁড়ি? পাঠ্যক্রমে মনুস্মৃতি ও অর্থশাস্ত্র অন্তর্ভুক্তির জোরালো সওয়াল – এবেলা

আইন কি কেবলই কোটিপতি হওয়ার সিঁড়ি? পাঠ্যক্রমে মনুস্মৃতি ও অর্থশাস্ত্র অন্তর্ভুক্তির জোরালো সওয়াল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দেশের ন্যাশনাল ল ইউনিভার্সিটিগুলোর (এনএলইউ) মেধাবী শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য এবং বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন মাদ্রাজ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি এস. এ. ধর্মধিকারী। চেন্নাইয়ে এক অনুষ্ঠানে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, বর্তমান প্রজন্মের আইন শিক্ষার্থীরা চমৎকার মেধার পরিচয় দিলেও তাদের মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে স্নাতক শেষ করার আগেই দ্রুত ‘মিলিয়নেয়ার’ বা কোটিপতি হওয়া। তার মতে, পেশাদার সাফল্যের এই ইঁদুর দৌড়ে শিক্ষার্থীরা তাদের সাংস্কৃতিক ও আদর্শগত শিকড় থেকে ক্রমশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।

প্রাচীন মূল্যবোধ বনাম আধুনিক আইনশিক্ষা

বিচারপতি ধর্মধিকারী বিশ্বাস করেন, কেবল আইনি মারপ্যাঁচে দক্ষ হওয়াই যথেষ্ট নয়, বরং একজন আইনজীবীর চিন্তাভাবনায় পরিপক্কতা আনতে প্রাচীন ভারতীয় জ্ঞানচর্চা অপরিহার্য। তিনি আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে মনুস্মৃতি, অর্থশাস্ত্রের পাশাপাশি জৈন ও বৌদ্ধধর্মের মূলনীতিগুলো অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন। তার মতে, এই প্রাচীন শাস্ত্রগুলো পাঠ করলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কর্ম ও কর্তব্যের বোধ জাগ্রত হবে এবং তারা ভারতীয় সংস্কৃতির প্রকৃত নির্যাস বুঝতে সক্ষম হবে।

সংবিধানের মূলে প্রাচীন ঐতিহ্যের প্রতিফলন

বিচারপতি তার বক্তব্যে মনে করিয়ে দেন যে, ভারতীয় সংবিধানের পরতে পরতে প্রাচীন ইতিহাস ও মূল্যবোধের ছায়া বিদ্যমান। পঞ্চতন্ত্রের কাহিনী, চাণক্যের নীতি কিংবা সম্রাট অশোকের ধর্মোপদেশ—এই সবকিছুই আমাদের আইনি কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য অংশ। হাজার বছরের বিদেশি আক্রমণ সত্ত্বেও ভারতীয় সভ্যতা টিকে থাকার মূল কারণ হিসেবে তিনি অভ্যন্তরীণ মূল্যবোধ ও ঐতিহ্যকে চিহ্নিত করেন। তাই তরুণ আইনজীবীদের আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রাচীন জ্ঞানকে পাঠ্যক্রমে বাধ্যতামূলক করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

এক ঝলকে

  • আইন শিক্ষার্থীদের কেবল দ্রুত অর্থ উপার্জনের দিকে না ঝুঁকে নৈতিক মূল্যবোধের দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান।
  • এনএলইউ-এর পাঠ্যক্রমে মনুস্মৃতি, অর্থশাস্ত্র, চাণক্য নীতি ও জাতকের কাহিনী অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব।
  • আধুনিক আইনব্যবস্থা ও সংবিধানের সাথে প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃতির সংযোগ স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ।
  • শিক্ষার্থীদের মধ্যে পেশাদারিত্বের পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দায়িত্ববোধ তৈরির প্রয়োজনীয়তা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *