রক্তে বাড়ছে ইউরিক অ্যাসিড? হাতের নাগালে থাকা এই খাবারে মিলবে অবিশ্বাস্য মুক্তি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
শরীরে পিউরিনের মাত্রা বেড়ে গেলে কিডনি তা ফিল্টার করতে হিমশিম খায়, যার ফলে রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ বাড়তে থাকে। এই বাড়তি অ্যাসিড হাড়ের জয়েন্টে জমা হয়ে তীব্র ব্যথা ও গেঁটে বাতের মতো যন্ত্রণাদায়ক সমস্যার সৃষ্টি করে। চিকিৎসকদের মতে, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন আনলে এই জটিল পরিস্থিতি থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
রাগির জাদুকরী গুণ ও ব্যবহারের কৌশল
ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে রাগি একটি মহৌষধি হিসেবে কাজ করতে পারে। এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে এবং পিউরিনের মাত্রা অত্যন্ত কম হওয়ায় এটি রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের ভারসাম্য বজায় রাখে। বিশেষ করে রাতে ঘোলের (বা মাঠা) মধ্যে রাগি ভিজিয়ে রেখে সকালে খেলে দারুণ উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া নিয়মিত রাগির রুটি বা লাড্ডু ডায়েটে রাখলে ওজন কমার পাশাপাশি জয়েন্টের ব্যথা থেকেও রেহাই পাওয়া যায়।
প্রাকৃতিক উপাদানে ঘরোয়া সমাধান
লেবুর রস এবং অলিভ অয়েলও ইউরিক অ্যাসিড কমাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস হালকা গরম জলে লেবুর রস মিশিয়ে খালি পেটে খেলে শরীরের অ্যাসিড স্তরে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। অন্যদিকে, রান্নায় সাধারণ তেলের বদলে অলিভ অয়েল ব্যবহার করলে এতে থাকা ‘মনো আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট’ ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। ওটস বা ব্রোকলির মতো ফাইবার সমৃদ্ধ খাবারও কিডনিকে টক্সিন বের করে দিতে সাহায্য করে।
তবে মনে রাখা জরুরি যে, ঘরোয়া প্রতিকার সহায়ক হলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে যাদের দীর্ঘদিনের ক্রনিক সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে সঠিক ডাক্তারি পরীক্ষা ও ডায়েট চার্ট মেনে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
এক ঝলকে
- রাগির উচ্চ ফাইবার ও নিম্ন পিউরিন রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা দ্রুত কমাতে সাহায্য করে।
- সকালে খালি পেটে লেবুর জল এবং রান্নায় অলিভ অয়েলের ব্যবহার জয়েন্টের ব্যথায় উপশম দেয়।
- ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার কিডনির কার্যকারিতা বাড়িয়ে শরীর থেকে অতিরিক্ত অ্যাসিড বের করে দেয়।
- সমস্যা গুরুতর হলে ঘরোয়া উপায়ের পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া একান্ত আবশ্যক।
