মানুষ নয় এবার কুকুরেরও হবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড! প্রশাসনের নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
প্রয়াগরাজে রাস্তার কুকুরের আক্রমণ ও কামড়ের ক্রমবর্ধমান ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে প্রশাসন। উত্তরপ্রদেশ সরকারের নগর উন্নয়ন দপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী, এখন থেকে কোনো পথকুকুর যদি দ্বিতীয়বার কোনো মানুষকে কামড়ায়, তবে তাকে আর রাস্তায় ছেড়ে দেওয়া হবে না। অপরাধী সাব্যস্ত হওয়া সেই কুকুরকে আমৃত্যু এনিসিমাল বার্থ কন্ট্রোল (এবিসি) সেন্টারের শেল্টার হাউসে বন্দি থাকতে হবে, যা কার্যত পশুদের জন্য ‘যাবজ্জীবন কারাদণ্ড’।
কড়া নজরদারি ও চিপ প্রযুক্তি
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো কুকুর প্রথমবার কাউকে কামড়ালে তাকে দশ দিনের জন্য পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এরপর তার শরীরে একটি বিশেষ মাইক্রোচিপ বসিয়ে আবার নির্দিষ্ট এলাকায় ছেড়ে দেওয়া হবে। এই চিপের মাধ্যমেই কুকুরের আচরণ ও গতিবিধির ওপর নজর রাখা সহজ হবে। কিন্তু সেই কুকুর যদি আবারও কাউকে কামড়ায়, তবে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। উসকানি ছাড়া কুকুরের আক্রমণ প্রমাণিত হলে তার ঠাঁই হবে স্থায়ী বন্দিশালায়।
উদ্বেগজনক পরিস্থিতি ও পরিকাঠামো
বর্তমানে প্রয়াগরাজে পথকুকুরের সংখ্যা ১ লক্ষ ১৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে এবং প্রতি মাসে প্রায় চার হাজার মানুষ কুকুরের কামড়ের শিকার হচ্ছেন। শুধু কামড় নয়, কুকুরের তাড়া খেয়ে প্রায়ই ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা ঘটছে, যাতে অকালমৃত্যুর মতো ঘটনাও সামনে আসছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার শামস নগরে ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি পশু জন্ম নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র গড়ে তুলেছে। পাশাপাশি ৪ কোটি টাকার আরও একটি আধুনিক কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে, যেখানে নিয়মিত নির্বীজকরণ ও টিকাকরণের কাজ চলবে।
লাইসেন্স ও দায়িত্বশীলতার অভাব
পথকুকুরদের পাশাপাশি পোষ্য প্রাণীদের বিষয়েও কড়াকড়ি শুরু করেছে পৌরসভা। পোষ্য কুকুর ও বিড়ালের লাইসেন্স ফি যথাক্রমে ১০০০ ও ৪০০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও নাগরিকদের মধ্যে তেমন উৎসাহ দেখা যাচ্ছে না। প্রশাসনের এই কঠোর সাজার সিদ্ধান্ত মূলত মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়া এবং অনিয়ন্ত্রিত কুকুরের সংখ্যা কমিয়ে শহরের শৃঙ্খলা বজায় রাখার একটি মরিয়া প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- দ্বিতীয়বার মানুষকে কামড়ালে পথকুকুরদের আমৃত্যু কারাবাসের সাজা দেওয়া হবে।
- প্রথমবার কামড়ানোর পর কুকুরের শরীরে মাইক্রোচিপ লাগিয়ে তার গতিবিধি শনাক্ত করা হবে।
- প্রয়াগরাজে লক্ষাধিক পথকুকুরের উপদ্রব ও মাসিক চার হাজার কামড়ের ঘটনার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত।
- ঘটনার গুরুত্ব বিচারে পশু আধিকারিক ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত কমিটি তদন্ত করবে।
