প্রাইভেট স্কুলের একাধিপত্যে লাগাম টানল সুপ্রিম কোর্ট! ঐতিহাসিক রায়ে স্বস্তিতে হাজারো অভিভাবক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য দূর করতে এবং বেসরকারি স্কুলগুলোর একাধিপত্য রুখতে যুগান্তকারী রায় দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, ‘শিক্ষার অধিকার আইন ২০০৯’ (RTE Act) অনুযায়ী রাজ্য সরকার যদি কোনো পড়ুয়াকে নির্দিষ্ট কোনো বেসরকারি স্কুলে ভর্তির নির্দেশ দেয়, তবে সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষ তা প্রত্যাখ্যান করতে পারবে না। লখনউ পাবলিক স্কুলের দায়ের করা একটি পিটিশন খারিজ করে আদালত জানিয়ে দিয়েছে যে, পড়ুয়ার যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ থাকলেও ভর্তি প্রক্রিয়া কোনোভাবেই আটকে রাখা যাবে না।
আইনি লড়াই ও আদালতের পর্যবেক্ষণ
এই মামলার সূত্রপাত উত্তরপ্রদেশের লখনউ পাবলিক স্কুলকে কেন্দ্র করে, যারা শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক মনোনীত এক পড়ুয়াকে ভর্তি নিতে অস্বীকার করেছিল। স্কুলটির দাবি ছিল, সংশ্লিষ্ট পড়ুয়ার যোগ্যতা নিয়ে তাদের সংশয় রয়েছে। বিষয়টি ইলাহাবাদ হাইকোর্ট হয়ে সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছালে শীর্ষ আদালত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে। বিচারপতিরা জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার একবার তালিকা চূড়ান্ত করে দিলে বেসরকারি স্কুলগুলো আর কোনো অজুহাত দেখাতে পারবে না। যদি কোনো বিষয়ে সন্দেহ থাকে, তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষা দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে, কিন্তু ভর্তি প্রক্রিয়া বিলম্বিত করা আইনত দণ্ডনীয়।
সামাজিক প্রভাব ও অধিকারের সুরক্ষা
সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের ফলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া ও বঞ্চিত শ্রেণির মানুষেরা। শিক্ষার অধিকার আইন অনুযায়ী, বেসরকারি স্কুলের প্রাথমিক স্তরে ২৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকে সাধারণ ও পিছিয়ে পড়া পরিবারের সন্তানদের জন্য। অনেক ক্ষেত্রে প্রাইভেট স্কুলগুলো নানা জটিলতা বা অজুহাতে এই ভর্তি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করত। আদালতের এই কড়া বার্তার ফলে এখন থেকে দেশের প্রতিটি শিশুর জন্য মানসম্মত শিক্ষা লাভের পথ আরও প্রশস্ত হলো।
এক ঝলকে
- বেসরকারি স্কুলে রাজ্য মনোনীত পড়ুয়াদের ভর্তি নেওয়া বাধ্যতামূলক করল সুপ্রিম কোর্ট।
- যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও ভর্তি প্রক্রিয়া কোনোভাবেই স্থগিত রাখতে পারবে না স্কুল কর্তৃপক্ষ।
- শিক্ষার অধিকার আইন ২০০৯ কার্যকর করতে এবং ২৫ শতাংশ সংরক্ষিত আসন নিশ্চিত করতে এই রায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
- লখনউ পাবলিক স্কুলের আবেদন খারিজ করে শিক্ষার অধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
