বিশ্ববাজারে চিনির দামে আগুন! ইরান ও আমেরিকা উত্তেজনার চরম প্রভাব – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিম এশিয়ায় ঘনীভূত হওয়া ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা থমকে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ছে। জ্বালানি তেলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য চিনির ওপর। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত চিনির দাম ১.৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি পাউন্ড ১৪.১২ সেন্টে দাঁড়িয়েছে, যা গত ৯ এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ। গত এক সপ্তাহেই চিনির দাম সব মিলিয়ে ৪.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় কপালে ভাঁজ পড়ছে সাধারণ মানুষের।
জ্বালানি সংকট ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি
ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার সংঘাতের জেরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে ডিজেল ও পেট্রোলের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে পণ্য পরিবহনের ভাড়া এবং সার উৎপাদনের খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি খাতের এই অস্থিরতা ও উচ্চ ব্যয় পরোক্ষভাবে খাদ্যপণ্যের বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে, যার ফলস্বরূপ বিশ্বজুড়ে চিনির দাম চড়তে শুরু করেছে।
ইথানল উৎপাদন বৃদ্ধি ও সরবরাহ ঘাটতি
চিনির দাম বাড়ার পেছনে বিশ্বের শীর্ষ উৎপাদক দেশ ব্রাজিলের নতুন বাণিজ্যিক কৌশল বড় ভূমিকা রাখছে। সাধারণত তেলের দাম বাড়লে ব্রাজিলীয় চিনি কলগুলো চিনি উৎপাদনের পরিবর্তে আখ থেকে জ্বালানি পণ্য ‘ইথানল’ উৎপাদনে বেশি আগ্রহী হয়ে ওঠে। বর্তমানে তেলের ঊর্ধ্বগতির কারণে চিনির বদলে ইথানল উৎপাদনে বেশি আখ ব্যবহৃত হওয়ায় বিশ্ববাজারে চিনির সরবরাহ কমে গেছে। একদিকে সরবরাহ ঘাটতি আর অন্যদিকে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি—এই দ্বিমুখী চাপে পড়ে চিনির বাজার মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
এক ঝলকে
- ইরান-আমেরিকা উত্তেজনায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত চিনির দাম ১.৪ শতাংশ বেড়েছে যা গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ।
- জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় চিনির বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে।
- তেলের বিকল্প হিসেবে ইথানল উৎপাদনে আখের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে চিনির জোগানে বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
- হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচলে বাধার সৃষ্টি হওয়ায় বিশ্বজুড়ে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
